কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ নেতা শহীদ কমরেড রেজানুর রহমান রেজন বিশ্বাসের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন, শপথ পাঠ ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সিংদাহ গ্রামে প্রয়াত শ্রমিকনেতার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় শপথ পাঠ করান জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ।
পরে বিকেল ৪টার দিকে চাপড়া মোড়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক সোলায়মান পারভেজের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় পালের সঞ্চালনায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আবুল কাশেম, কুমারখালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কৃষকনেতা আব্দুল মান্নান, স্বর্ণশিল্পী সমিতির জেলা সভাপতি পলান বিশ্বাস, বাংলাদেশ হোটেল-রেস্টুরেন্ট-মিষ্টি-বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি রমজান বিশ্বাস, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ জেলা আহ্বায়ক ও গীতিকার আজব আলী, কৃষক সংগ্রাম সমিতি মিরপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুল ইসলাম, ফার্নিচার শ্রমিক সংঘের সভাপতি আমানত শেখ এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সদর উপজেলা সভাপতি তোরাপ আলী ব্যাপারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, কমরেড রেজানুর রহমান রেজন বিশ্বাস ছিলেন সৎ, শ্রেণিসচেতন ও আপসহীন সংগ্রামী শ্রমিকনেতা। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সহসাধারণ সম্পাদক এবং মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন নম্বর-৭২-এর নির্বাচিত সাবেক নির্বাহী সদস্য হিসেবে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, ন্যায্য পাওনা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
বক্তারা আরও বলেন, রেজন বিশ্বাসের সংগ্রাম কেবল মজুরি বৃদ্ধি কিংবা তাৎক্ষণিক শ্রমিকস্বার্থের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের সামগ্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গেও তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আজও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
প্রধান আলোচক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারি বলেন, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধময় পরিস্থিতির অভিঘাত বাংলাদেশেও পড়ছে। একদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষের একটি অংশ কর্মসংস্থানের সংকটে পড়ছেন। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের একটি বড় অংশও নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এ বাস্তবতায় কমরেড রেজন বিশ্বাসের জীবন, আদর্শ ও সংগ্রামী ভূমিকা থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে।
স্মরণসভায় বক্তারা প্রয়াত শ্রমিকনেতা কমরেড রেজন বিশ্বাসের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে তাঁর অসমাপ্ত সংগ্রামী আদর্শকে ধারণ করে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |