কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির জনপদ কুষ্টিয়া আজ নতুন এক উদ্বেগের নামের সঙ্গে পরিচিত—মাদক সেবীদের বেপরোয়া উৎপাত। শহরের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও জনবহুল এলাকায় প্রতিনিয়ত তাদের অবাধ বিচরণে সাধারণ মানুষ দিন দিন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক সেবীদের কারণে ফুটপাতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও অনেক সময় দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। কখনো উচ্চস্বরে অশালীন আচরণ, কখনোবা পথচারীদের উদ্দেশে হুমকি—এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে বলে জানান বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে মাদক সেবীদের আড্ডা জমে উঠেছে। তারা প্রায়শই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে। ফলে নারী, শিশু ও বয়স্করা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সম্প্রতি উজ্জ্বল নামে এক সহজ-সরল ব্যক্তিকে রাতের আঁধারে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে আহত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলার চেষ্টা নয়; বরং এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তাবোধে আঘাত।
সচেতন মহল মনে করছে, মাদকের ভয়াল থাবায় যুবসমাজ ক্রমেই বিপথগামী হয়ে পড়ছে। যে তরুণদের হাত ধরে আগামী দিনের স্বপ্ন রচিত হওয়ার কথা, তারাই আজ নেশার অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায়ও মাদক সেবীদের আনাগোনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবি—নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তরুণদের সঠিক পথে ফেরানোর উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি বলে মত বিশিষ্টজনদের।
সুশাসন, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ—এই তিনের সমন্বিত প্রয়াসেই কেবল মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও স্বস্তির কুষ্টিয়া গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |