| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার মাদকসম্রাজ্ঞী কামিনী বেগম ও রহিমা খাতুনকে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 24-08-2026 ইং
  • 94 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার মাদকসম্রাজ্ঞী কামিনী বেগম ও রহিমা খাতুনকে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড
ছবির ক্যাপশন: ফেনসিডিল-ইয়াবা ও নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন একটি মাদক মামলায় কুষ্টিয়ার আদালত দুই নারী আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে একজন আসামিকে অতিরিক্ত সাজা ও অর্থদণ্ড এবং অপর আসামিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত মামলার জব্দকৃত ফেনসিডিল, ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি কুষ্টিয়া জিআর ৩০৯/১৫ এবং দায়রা মামলা নং ১০/১৭ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। মামলায় মোট আসামি ছিলেন তিনজন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলার আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার আজাদুর রহমানের স্ত্রী মোছা. কামিনী বেগম, একই এলাকার মো. আনিসুর রহমানের স্ত্রী মোছা. রহিমা খাতুন এবং মো. আজাদুর রহমান। এর মধ্যে আজাদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। অপরদিকে কামিনী বেগম ও রহিমা খাতুন বিচার কার্যক্রমে আদালতের নজরদারিতে ছিলেন।

মামলার অভিযোগপত্রে ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) ধারার টেবিলের ৩(খ), ৯(ক) ও ১৯(৪) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য দায়রা আদালতে পাঠান।

রায়ের আদেশে আদালত মোছা. কামিনী বেগমকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ১৯(১) ধারার টেবিলের ৩(খ) অনুযায়ী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই মামলায় ৯(ক) ধারায় তাঁকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অপর আসামি মোছা. রহিমা খাতুনকেও একই আইনের ১৯(১) ধারার টেবিলের ৩(খ) অনুযায়ী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, মামলার জব্দতালিকায় থাকা কামিনী বেগমের কাছ থেকে উদ্ধার করা ১১০ বোতল ফেনসিডিল, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৮০০ টাকা এবং রহিমা খাতুনের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ বোতল ফেনসিডিল রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

রায়ে কামিনী বেগমের বিরুদ্ধে দণ্ড কার্যকরের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে সাজা গণনা শুরু হবে এবং মামলায় পূর্বে হাজতবাসের সময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫এ ধারা অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ যাবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালত জব্দকৃত আলামত নিষ্পত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ের অনুলিপি কুষ্টিয়ার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার ও কোর্ট মালখানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দেওয়া এ রায়কে মাদকবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনটি আদালতের সরবরাহ করা নথির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম