কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
সবুজের সমারোহে বদলে গেছে কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠের চিত্র। যতদূর চোখ যায়, ততদূর শুধু দুলছে ধানের শীষ। বাতাসে শীষের মৃদু দোল, মাঠজুড়ে সোনালি আভা আর কৃষকের ব্যস্ত পদচারণা—সব মিলিয়ে কুষ্টিয়ার গ্রামবাংলায় এখন যেন ধানের উৎসবের আবহ। প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন জেলার কৃষকেরা। মাঠের বর্তমান চিত্রও সেই আশার কথাই বলছে।
কুষ্টিয়ার সদর, মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমনসহ বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। কোথাও ধানের শীষ ইতোমধ্যে ভারী হয়ে উঠেছে, কোথাও আবার শস্যদানা পূর্ণতার অপেক্ষায়। কৃষকের চোখে-মুখে এখন পরিশ্রমের ফসল ঘরে তোলার প্রত্যাশা।
কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বীজতলা তৈরি, জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে। এরপর আগাছা দমন, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচর্যা করেছেন তারা। মাঠে কাঙ্ক্ষিত ফলন দেখা দেওয়ায় সেই শ্রমের সার্থকতার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
মিরপুর উপজেলার এক কৃষক বলেন, ধানের গাছ এবার বেশ ভালো হয়েছে। শীষও বড় হয়েছে এবং ধানে দানা ভালোভাবে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচের কারণে উৎপাদন ব্যয় নিয়ে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধানের ফলন ভালো করতে সময়মতো জমি প্রস্তুত, সুষম সার ব্যবহার, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই দমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ধান কাটার সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন ঘরে তুলতে পারবেন।
কুষ্টিয়ার মাঠে এখন তাই একদিকে কৃষকের স্বপ্ন, অন্যদিকে প্রকৃতির অনুকূলতার অপেক্ষা। ধানের শীষ যত ভারী হচ্ছে, ততই বাড়ছে কৃষকের প্রত্যাশা। কয়েক মাসের শ্রম-ঘাম আর অপেক্ষার পর সেই শস্য যদি নিরাপদে গোলায় ওঠে, তাহলে শুধু কৃষকের ঘরেই নয়—স্বস্তি ফিরবে জেলার সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতেও।
কৃষকের ভাষায়, “মাঠ হাসলে কৃষকের মুখও হাসে।” কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে দুলতে থাকা ধানের শীষ এখন সেই হাসিরই বার্তা দিচ্ছে। বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন কৃষকেরা; আর সেই প্রত্যাশা পূরণ হলে কৃষকের গোলা ভরে উঠবে সোনালি ধানে, প্রাণ ফিরে পাবে গ্রামবাংলার অর্থনীতি।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |