কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরপুর চিয়াসিড। বিশ্বজুড়ে ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত এই ক্ষুদ্র দানাদার শস্যটি এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশেও। আর সেই বাড়তে থাকা চাহিদাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কৃষকেরা পরীক্ষামূলকভাবে চিয়াসিড চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের স্বপ্ন দেখছেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছেন এই নতুন ফসল চাষে। অল্প খরচ, তুলনামূলক কম পরিচর্যা এবং লাভজনক বাজারদামের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে চিয়াসিড এখন কৃষকদের কাছে হয়ে উঠছে আশার নতুন আলো।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চিয়াসিড একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্যশস্য। এতে রয়েছে ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ফলে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শুধু দেশের বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও চিয়াসিডের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই এই ফসল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে কৃষকদের জন্য তৈরি হতে পারে আয়ের নতুন দিগন্ত।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের যদুবয়রা গ্রামের কয়েকজন কৃষক এবার প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চিয়াসিড চাষ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ক্ষেতজুড়ে সবুজ গাছে ফুল ফুটেছে এবং দানা ধরতে শুরু করেছে। ক্ষেতের এমন সম্ভাবনাময় চিত্র দেখে কৃষকেরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এবারই প্রথম চিয়াসিড চাষ করেছি। খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না, খরচও তুলনামূলক কম। যদি বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এই ফসল চাষ করার পরিকল্পনা আছে।”
আরেক কৃষক মো. আকিব হোসেন জানান, “নতুন ফসল হওয়ায় শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল। তবে এখন গাছের বৃদ্ধি ও ফলনের সম্ভাবনা দেখে মনে হচ্ছে এটি লাভজনক ফসল হতে পারে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুষ্টিয়ার মাটি ও আবহাওয়া চিয়াসিড চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তুলনামূলকভাবে কম সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেই এই ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। এতে জমির উর্বরতাও বজায় থাকে, যা কৃষির জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
কুমারখালী উপজেলা কৃষিবিদ মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, “চিয়াসিড একটি সম্ভাবনাময় নতুন ফসল। কৃষকেরা পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেছেন এবং এখন পর্যন্ত ফলন বেশ আশাব্যঞ্জক। ভবিষ্যতে যদি বাজারজাতকরণে সহায়তা ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষের বড় সুযোগ তৈরি করবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ধান, গমসহ প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি চিয়াসিড চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলে যাবে এবং কৃষি খাতে বৈচিত্র্য আসবে।
কুষ্টিয়ার মাঠে তাই এখন নতুন স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা। ক্ষুদ্র এই দানার মধ্যেই তারা দেখছেন সম্ভাবনার বিশাল দিগন্ত। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই সুপারফুড একদিন হয়তো কুষ্টিয়ার কৃষিতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সূচনা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সবার।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |