| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার দাবিতে সন্তানের কান্নায় ভারী পরিবেশ

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 07-03-2026 ইং
  • 224 বার পঠিত
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার দাবিতে সন্তানের কান্নায় ভারী পরিবেশ
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার দাবিতে সন্তানের কান্নায় ভারী পরিবেশ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ায় নিজ দপ্তরে নৃশংসভাবে নিহত আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার দাবিতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে পরিবারের সদস্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার ছোট ছোট সন্তানের কান্না ও মায়ের জন্য আকুতিতে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব সামনে শুরু হওয়া এই মানববন্ধন চলে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। এতে নিহত শিক্ষিকার পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

মানববন্ধনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্ত ছিল নিহত শিক্ষিকার বড় মেয়ে ইফফাত তাইবার কান্নাজড়িত বক্তব্য। মাত্র ১০ বছর বয়সী ইফফাত তার মায়ের জন্য আকুতি জানিয়ে বলে,“আমাদের মাকে ফিরিয়ে দেন। তা না হলে মায়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দেন। আমার ভাইবোনগুলো রাতে ঘুমাতে পারে না। মা আমাদের কত আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দিত। আমরা এখন মাকে কোথায় পাব?”

মানববন্ধনে ইফফাতের সঙ্গে উপস্থিত ছিল তার আরও তিন ভাইবোন—জান্নাতুল বুশরা (৭), আবরার সাজিদ (৩) ও মাত্র ১৩ মাস বয়সী আয়েশা। চার সন্তানের শোকে বিধ্বস্ত পরিবারের উপস্থিতি মানববন্ধনে আসা সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, যিনি কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, অভিযোগ করে বলেন, “আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। তারা বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে। এই তদন্ত নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজ দপ্তরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশে কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিজ অফিস কক্ষে নৃশংস হত্যার শিকার হলেও এখনো অনেক শিক্ষক প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাননি—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এর আগেও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কিন্তু অনেক ঘটনার রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।

বক্তারা বলেন, দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।

মানববন্ধনের শেষ মুহূর্তে নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং তার পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিতরা।



ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম