| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার গোলাপনগরে সোলেমান শাহ (রহ.)-এর মাজারে তিন দিনের মেলা

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 27-09-2026 ইং
  • 420 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার গোলাপনগরে সোলেমান শাহ (রহ.)-এর মাজারে তিন দিনের মেলা
ছবির ক্যাপশন: আধ্যাত্মিক টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো ভক্ত-অনুরাগী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

পদ্মার তীর ঘেঁষে সবুজে ঘেরা শান্ত-নিরিবিলি জনপদ গোলাপনগর। দিনের আলোয় এটি আর দশটি গ্রামের মতোই স্বাভাবিক; কিন্তু আশ্বিনের নির্দিষ্ট তিন দিনে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ভক্ত-অনুরাগীদের পদচারণা, ধর্মীয় আবহ আর আধ্যাত্মিক সাধনার আবেশে মুখর হয়ে ওঠে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার এই জনপদ। এখানে অবস্থিত হযরত সোলেমান শাহ (রহ.)-এর মাজারকে ঘিরে প্রতিবছর বসে তিন দিনের ঐতিহ্যবাহী মেলা।

বাংলা আশ্বিন মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজনটি ছিল মেলার ৫০তম আসর। মাজার প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় মানুষের আগমন। কেউ আসেন মানত নিয়ে, কেউ আসেন প্রিয়জনের জন্য দোয়া করতে, আবার কেউ নিভৃত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে খুঁজে ফেরেন আত্মিক প্রশান্তি।

ভেড়ামারার গোলাপনগরের প্রায় ৯ একর জমির ওপর বিস্তৃত মাজার প্রাঙ্গণ তিন দিনের জন্য পরিণত হয় মানুষের মিলনস্থলে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি ভক্তদের আগমন, আলোচনা, জিকির-আযকার, মিলাদ মাহফিল ও গণভোজকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় গোটা এলাকা।

মাজার শরীফের প্রধান খাদেম মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও আশ্বিন মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিল মেলার ৫০তম আয়োজন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী এখানে সমবেত হন।”

স্থানীয়দের বিশ্বাস, হযরত সোলেমান শাহ (রহ.) ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক সাধক ও অলী। সরলতা, সহনশীলতা, মানবকল্যাণ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চাই ছিল তাঁর জীবনাদর্শের মূল কথা—এমন বিশ্বাস ধারণ করে বহু মানুষ আজও তাঁর মাজারে আসেন। সাধকের ইন্তেকালের পরও তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছে।

মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ধর্মীয় ও সামাজিক আবহ। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এতে অংশ নেন। ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ, জিকির-আযকার ও গণভোজের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় এক ধরনের মিলনমেলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আগত ভক্তদের অংশগ্রহণে মাজার প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক মিলনক্ষেত্র।

পদ্মার কাছাকাছি হওয়ায় গোলাপনগরের প্রাকৃতিক পরিবেশও মেলায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। সবুজে ঘেরা মাজার প্রাঙ্গণে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়, ধর্মীয় আবহ ও শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে তৈরি হয় ভিন্ন এক অনুভূতি। অনেক ভক্তের ভাষ্য, মাজারে এসে কিছু সময় কাটালে মনটা যেন হালকা হয়ে আসে—কোলাহলময় জীবনের বাইরে পাওয়া যায় এক ধরনের প্রশান্তি।

স্থানীয়দের মতে, গোলাপনগরের এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও। মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়। ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের যে চিত্র এখানে দেখা যায়, তা গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংস্কৃতিরও প্রতিফলন।

সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনযাপন। তবু গোলাপনগরের মাজারকে ঘিরে মানুষের আস্থা ও আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং প্রতি বছর মেলার সময় দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষের সমাগমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আধ্যাত্মিকতার প্রতি মানুষের টান এখনো গভীর। তাই হযরত সোলেমান শাহ (রহ.)-এর মাজারকে ঘিরে আশ্বিনের এই তিন দিনের আয়োজন কুষ্টিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে টিকে আছে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম