কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
জাত-পাতের দেয়াল পেরিয়ে, ধর্মের বিভাজন ছাপিয়ে যে সাধক মানুষকে চিনেছিলেন মানুষের পরিচয়ে—তিনি ফকির লালন শাহ। তাঁর কণ্ঠের গান থেমেছে বহু আগে, কিন্তু থামেনি তাঁর প্রশ্ন; থামেনি মানুষের ভেতরের মানুষকে খুঁজে ফেরার সেই আহ্বান। ১৩৬তম তিরোধান দিবস সামনে রেখে তাই আবারও সেজে উঠছে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া—যেখানে লালনের স্মৃতি, সাধনা আর দর্শন আজও মিশে আছে মাটির সঙ্গে।
‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’—শত বছরের বেশি সময় পেরিয়েও লালনের এই প্রশ্ন যেন আজও সমাজের সামনে আয়না হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর গান শুধু বাউল সুরের অনুষঙ্গ নয়; তা মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও আত্মঅন্বেষণের এক গভীর দর্শন। সেই দর্শনের উত্তরাধিকারকে ধারণ করে তিরোধান দিবসের আয়োজনকে ঘিরে কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
এ উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতি সভা। সভায় তিরোধান দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি, অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে লালনের জীবন, দর্শন ও মানবতাবাদী চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবছর তিরোধান দিবস ঘিরে ছেঁউড়িয়ায় জড়ো হন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লালনভক্ত, সাধু-বাউল ও দর্শনার্থীরা। একতারার টুংটাং, দোতারার সুর আর বাউলগানের আবেশে আখড়াবাড়ির চারপাশ হয়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ। এবারও সেই আয়োজনকে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
লালন চলে গেছেন ১৩৬ বছর আগে। কিন্তু তাঁর গান এখনো প্রশ্ন তোলে, তাঁর দর্শন এখনো ভাবায়। ছেঁউড়িয়ায় তাই তিরোধান দিবসের আয়োজন কেবল স্মরণ নয়—এ যেন মানুষকে মানুষের চোখে দেখার সেই চিরন্তন আহ্বানেরই পুনরুচ্চারণ।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |