কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
একসময় এলাকার শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর মিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই প্রতিষ্ঠান আজ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক প্রশ্নবিদ্ধতার জটিল আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও কাগজে-কলমে এখনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেই বহাল রয়েছেন—যা সাধারণ মানুষের কাছে এক বিস্ময়কর বাস্তবতা।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। এলাকাবাসীর দাবি, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে থাকা বি.এ পাসের সনদ জাল। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক ও পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়াও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সময় কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা হয়নি, এমনকি নিয়োগ পরীক্ষার খাতারও কোনো অস্তিত্ব নেই।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে তিনি সরকারি রাজস্ব থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত।
জানা যায়, ২০০০ সালের ১৪ নভেম্বর তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরু থেকেই নানা অভিযোগ থাকলেও প্রভাব ও যোগাযোগের জোরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পদে বহাল থেকেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এরপর ২০২২ সালে স্বল্প সময়ের জন্য দেশে ফিরে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করে পুনরায় বিদেশে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। অথচ দীর্ঘ অনুপস্থিতির পরও বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ও সরকারি নথিতে তার নাম বহাল রয়েছে—যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—বিদেশে অবস্থান করেই তিনি নিয়মিত প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি জনমনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বিদেশে বসে কেউ কীভাবে একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক থাকেন—এটা শুধু অস্বাভাবিক নয়, পুরো ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক।”
বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. এনামুল হক, যিনি ৭ আগস্ট ২০২৪ থেকে এই দায়িত্বে রয়েছেন। তবে মূল পদটি এখনো শূন্য ঘোষণা না হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা কাটছে না।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সপ্তম গ্রেডে বেতন পান। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৯ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে তা সর্বোচ্চ ৬৩ হাজার ৪১০ টাকায় উন্নীত হয়। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব বোনাসসহ নানা সুবিধা যুক্ত থাকে। ফলে বিদেশে অবস্থান করেও এসব সুবিধা ভোগের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি কেবল একটি বিদ্যালয়ের সমস্যা নয়—বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
এখন সবার মুখে একটাই প্রশ্ন—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে নড়েচড়ে বসবে? আর কবে ফিরবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও আস্থার পরিবেশ?
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |