| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

যে কারণে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের গলা কাটলেন কর্মচারী

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 04-03-2026 ইং
  • 203 বার পঠিত
যে কারণে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের গলা কাটলেন কর্মচারী
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হত্যায় শোকের ছায়া

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে গভীর শোক ও স্তব্ধতা। সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানিই নয়, বরং প্রশ্ন তুলেছে কর্মপরিবেশ, মানবিক সম্পর্ক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বেতনসংক্রান্ত জটিলতা ও বিভাগ পরিবর্তন নিয়ে ক্ষোভের জেরে ফজলুর রহমান নামের এক কর্মচারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুনার গলায় আঘাত করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার পর অভিযুক্ত কর্মচারী নিজেও নিজের গলায় আঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ঘটনাস্থলে আতঙ্ক, দরজা ভেঙে উদ্ধার

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে হঠাৎ ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে ভবনের নিচে অবস্থানরত আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে উপরে যান। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন তারা। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, রুনা রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। অভিযুক্ত কর্মচারী তখনও নিজের গলায় আঘাত করছিলেন বলে জানান উপস্থিতরা।

দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। আহত দু’জনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বদলি ও বেতন জটিলতার জেরে ক্ষোভ

শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ‘আচরণগত কারণে’ তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। এ সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না বলে জানা যায়। পাশাপাশি প্রায় নয় মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বদলির পর থেকেই ফজলুরের মধ্যে অস্বস্তি ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—পেমেন্ট ও বদলিজনিত বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত।

ইফতার আয়োজনের দিনেই শোক

ঘটনার দিন বিভাগে ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি চলছিল। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কক্ষ গোছগাছ করছিলেন। ঠিক সেই সময় চেয়ারম্যানের কক্ষ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ ভেসে আসে। দরজা ভেঙে প্রবেশের পরই সামনে আসে এই মর্মান্তিক দৃশ্য।

শিক্ষার্থীদের ভাষায়, “ম্যাম ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। এমন ঘটনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”

পরিবার ও ব্যক্তিগত পরিচয়

নিহত আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়ার সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক। তারা কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ায় বসবাস করতেন। রুনার পৈতৃক বাড়ি ভেড়ামারা উপজেলায়। আর অভিযুক্ত ফজলুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শান্তিডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।

প্রশাসনের অবস্থান

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহিনুজ্জামান জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শোক, প্রশ্ন ও প্রতিকার প্রত্যাশা

ক্যাম্পাসজুড়ে এখন শোকের ছায়া। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বেতন জটিলতা কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষোভ—যে কারণেই হোক, এমন নির্মম পরিণতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে—সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম