কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
চিকিৎসার আশায় ভারতে গিয়ে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর স্ত্রী আফসানা সিমমিন। তাঁদের সঙ্গে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে তিন বছরের শিশুসন্তান স্বর্ণ শীষ দত্ত ও আফসানা সিমমিনের বাবা আকরাম আলীরও। কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চারজনের এই করুণ মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক অঙ্গন ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বয়স হয়েছিল প্রায় ৪০ বছর। তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, অসুস্থ স্ত্রী আফসানা সিমমিনের চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ দত্ত ভারতে যান। চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁরা কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া এই পরিবারকে শেষ পর্যন্ত ফিরতে হলো নিথর দেহে—যে পরিণতি স্বজনদের কাছে যেন এক অবিশ্বাস্য দুঃস্বপ্ন।
নিহত দেবাশীষ দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায়। তাঁর শ্বশুর আকরাম আলীর বাড়ি শহরের থানাপাড়া এলাকায়। দেবাশীষ দত্তের পরিবারে রয়েছে আট বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান এবং তাঁর বাবা-মা। স্বজনদের বুকভরা আহাজারির মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ছোট্ট শিশুটিকে কীভাবে বোঝানো হবে, কেন তার মা-বাবা আর কখনো ফিরে আসবেন না।
স্থানীয় ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য মহীশূর জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশের নাগরিক এবং একজন ভারতীয়। ভারতের পিটিআই, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।
একটি চিকিৎসাযাত্রা যে এভাবে মৃত্যুযাত্রায় পরিণত হবে, তা হয়তো কল্পনাতেও ছিল না দেবাশীষদের পরিবারের। স্বজনদের কাছে তাঁদের শেষ যাত্রার স্মৃতি হয়ে রইল কলকাতার সেই ভয়াল রাত। আর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজ হারাল একজন সহকর্মীকে—যাঁর কলমে উঠে আসত মানুষের কথা, এলাকার কথা, সমাজের নানা অসঙ্গতি ও সম্ভাবনার কথা।
দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শ্বশুরের আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়াজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কণ্ঠে এখন একটাই কথা—চিকিৎসার আশায় যাওয়া একটি পরিবার যেন আগুনের লেলিহান শিখায় নিঃশেষ হয়ে গেল। রেখে গেল স্বজনদের জন্য অসহনীয় শূন্যতা আর এক মর্মস্পর্শী স্মৃতি।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |