| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের দোকান ভাড়ার ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 06-08-2026 ইং
  • 564 বার পঠিত
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের দোকান ভাড়ার ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
ছবির ক্যাপশন: ৩১ মাসের আয় কোথায় জমা হয়েছে—স্বচ্ছ তদন্তের দাবি সদস্যদের

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের মালিকানাধীন থানাপাড়ার ছয়টি দোকানঘরের ভাড়া বাবদ গত ৩১ মাসে প্রায় ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনটির একাধিক সাধারণ সদস্য। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় হলেও সেই অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কখনোই সাধারণ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে প্রেসক্লাবের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে আল মামুন সাগর সভাপতি এবং আবু মনি জুবায়েদ রিপন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসক্লাবের আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে বাণিজ্য মেলার আয়োজন এবং থানাপাড়ায় অবস্থিত প্রেসক্লাবের শোরুমসহ ছয়টি দোকানঘর ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।

প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, দোকানঘরগুলোর ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। সেই হিসাবে গত ৩১ মাসে মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে এই অর্থের কতটুকু প্রেসক্লাবের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে, সে বিষয়ে সাধারণ সদস্যদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রেসক্লাবের কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, সাধারণ পরিষদের সভায় ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয়ের বিবরণ কিংবা নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন না করায় সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রেসক্লাবের সব আর্থিক লেনদেন সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা এবং ব্যাংক হিসাব যাচাই করা জরুরি।

এদিকে গত ছয় মাস ধরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান প্রেসক্লাবের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে নেই।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, দোকান ভাড়া থেকে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৫১ হাজার টাকা আয় হয়। ওই অর্থ সাবেক কোষাধ্যক্ষ লিটনুজ্জান আদায় করেন। পিয়ন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, “এ টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই।”

জেলা প্রশাসককে প্রেসক্লাবের ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসককে নয়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ)-কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেসক্লাবের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একটি নিরপেক্ষ আর্থিক নিরীক্ষার মাধ্যমে সব প্রশ্নের জবাব পাওয়া সম্ভব।

এছাড়া প্রেসক্লাবের বাইরে থাকা অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পদবঞ্চিত সদস্যদের দাবি, সকল বৈধ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা হলে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণসহ প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

প্রেসক্লাবের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন সদস্যরা।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম