| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় পাটের বাজার চড়া, কৃষকের মুখে হাসি

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 26-07-2026 ইং
  • 6960 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় পাটের বাজার চড়া, কৃষকের মুখে হাসি
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ায় পাটের বাজার চড়া, কৃষকের মুখে হাসি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ায় নতুন পাটের বাজারে এবার যেন সুদিনের সুবাতাস। মৌসুমের শুরুতেই পাটের দাম চড়া থাকায় স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মুখে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ পাটে দাম বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বর্তমান বাজারদরে পাট বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ নতুন পাট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে। অথচ এবার একই সময়ে সেই পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে। এতে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে বাড়তি দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা।

তবে দাম বাড়লেও বেড়েছে উৎপাদন খরচ। বিশেষ করে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের ব্যয়ও বেড়েছে। কৃষকেরা জানান, গত বছর দৈনিক প্রায় ৭০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও এবার একই কাজে শ্রমিকপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এতে গত বছরের তুলনায় প্রতি মণ পাটের উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

গত বছর যেখানে প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ পড়ত আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ টাকা, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। তবে বর্তমান বাজারদরে পাট বিক্রি করতে পারায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও কৃষকের হাতে থাকছে উল্লেখযোগ্য লাভ।

কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম বাজারে বৃহস্পতিবার   সপ্তাহে এক দিন বসে সাপ্তাহিক পাটের হাট। এ হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে নতুন পাটের কেনাবেচা। তবে মৌসুমের শুরু হওয়ায় এখনো বাজারে পাটের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যারা মৌসুমের শুরুতে পাট আবাদ করেছিলেন, মূলত তারাই আগাম পাট কেটে বাজারে তুলছেন। ফলে হাটে এখনো চোখে পড়ার মতো পাটের সরবরাহ দেখা যাচ্ছে না।

  বাঁশগ্রাম বাজারে পাট কিনতে আসা রাশিদুল ইসলাম  বলেন, দিন যত গড়াবে, হাটে পাটের সরবরাহ তত বাড়বে। তবে মৌসুমের শুরু হিসেবেও বর্তমানে বাজারে মোটামুটি ভালো পরিমাণে পাট আসছে। সপ্তাহখানেক আগে প্রতি মণ পাটের দাম ৪ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এর তুলনায় সর্বশেষ হাটে দাম আরও ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমান দামে পাট বিক্রি করে কৃষকেরা খুশি মনেই বাড়ি ফিরছেন।

তবে বাজারে পাটের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন কৃষকেরা। বাগুলাট  ইউনিয়নের শালঘরমধুয়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম, দুধকুমড়া গ্রামের বাবুল হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, বর্তমান বাজারদরে তারা সন্তুষ্ট। কিন্তু আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাট উঠলে দাম কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে।

কৃষকেরা জানান, এখনো অধিকাংশ কৃষক অল্প অল্প করে পাট কাটছেন। এরপর জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর প্রক্রিয়া শেষ করে তা বাজারে তুলছেন। অনেক কৃষকের পাট বাজারে আসতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। কারও কারও ক্ষেত্রে সময় লাগতে পারে আরও বেশি।

কৃষকেরা বলছেন, পাটের বর্তমান বাজারদর যদি মৌসুমজুড়ে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন তারা। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্পের কাঁচামালের জোগানও শক্তিশালী হবে।

কুষ্টিয়া সদর  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ রুপালি খাতুন বলেন, আবহাওয়া, ফলন ও বাজারদর—সবকিছু বিবেচনায় এবার কৃষকেরা পাট চাষে লাভজনক অবস্থানে রয়েছেন। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণে কৃষকের প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা বা তারও বেশি লাভ হতে পারে। তবে এখনো বাজারে পাটের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তখন বাজারদর কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়, সেটি আরও স্পষ্ট হবে।

মৌসুমের শুরুতেই পাটের চড়া দাম কৃষকের মনে আশার আলো জ্বালালেও সামনে রয়েছে বাজারদর ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। কৃষকদের প্রত্যাশা, সরবরাহ বাড়লেও যেন অস্বাভাবিকভাবে দাম না কমে। কারণ পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলেই কেবল উৎপাদন খরচের চাপ সামলে কৃষকের ঘরে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ও লাভের হাসি।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম