কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
বর্ষার আগমনে সবুজে মোড়ানো কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দুলছে সোনালি আঁশের ফসল পাট। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাটের ক্ষেতগুলোতে দেখা দিয়েছে আশাব্যঞ্জক চিত্র। ফলে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন জেলার হাজারো পাটচাষি।
জেলার দৌলতপুর, মিরপুর, কুমারখালী, ভেড়ামারা, খোকসা ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণও তুলনামূলকভাবে কম। মাঠের প্রতিটি পাটখেত যেন কৃষকের মুখে নতুন আশার হাসি ফুটিয়ে তুলেছে।
পাটচাষিরা জানান, বর্তমানে পাট কাটার প্রস্তুতি চলছে। অনেক এলাকায় ইতোমধ্যে পাট কাটার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি থাকায় জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তেমন কোনো সমস্যা হবে না বলে তারা আশা করছেন। ভালো মানের আঁশ উৎপাদিত হলে বাজারেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার প্রত্যাশা তাদের।
দৌলতপুর উপজেলার একাধিক কৃষক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের গাছ আরও সবল ও স্বাস্থ্যবান হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে পাট চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।
এদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে এ বছর ফলন সন্তোষজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথাও কোথাও নিম্নমানের বীজ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, যা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। তাই কৃষকরা যদি ন্যায্যমূল্য পান, তবে কুষ্টিয়ার অর্থনীতিতে পাট আবারও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
সোনালি আঁশের ঐতিহ্যকে ধারণ করে কুষ্টিয়ার কৃষকেরা এখন তাকিয়ে আছেন সফল ফসল ঘরে তোলার দিনের দিকে। প্রকৃতির অনুকূলতা ও বাজারে ন্যায্য মূল্য মিললে চলতি মৌসুমটি জেলার পাটচাষিদের জন্য হতে পারে নতুন সম্ভাবনা ও স্বপ্নপূরণের এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |