| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত, এজাহারে উঠে এলো নেতৃত্বের নাম

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 16-04-2026 ইং
  • 22295 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত, এজাহারে উঠে এলো নেতৃত্বের নাম
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত, এজাহারে উঠে এলো নেতৃত্বের নাম

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন পর দায়েরকৃত এজাহারে হামলার নেতৃত্বদানকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা পুরো ঘটনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে ইঙ্গিত মিলছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহতের বড় ভাই মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে সরাসরি নেতৃত্বদানকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন—১) মুহাম্মদ খাজা আহমেদ (৩৮),২) মো. আসাদুজ্জামান (৩৫),৩) রাজীব মিস্ত্রী (৪৫),৪) মো. শিহাব (৪৫),এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ১১ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে এসব আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের দরবার শরীফে হামলা চালায়। দরজা-জানালা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি তারা পীর শামীমকে লক্ষ্য করে নির্মম হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা স্লোগান দিতে দিতে দরবারে প্রবেশ করে এবং পরিকল্পিতভাবে দোতলায় উঠে পীর শামীমকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে। এরপর লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের শরীরে বিশেষ করে মুখমণ্ডল, মাথা ও ঘাড়ে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটি তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। কারণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শতাধিক মানুষ সংগঠিত হয়ে হামলা চালিয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, “ভিডিও ছড়ানো এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ১৫-১৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। নিশ্চিত হয়ে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

অন্যদিকে, পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন। জানাজা শেষে পীর শামীমকে নিজ গ্রামেই দাফন করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আইনি লড়াই জোরদার করবে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে এমন সহিংসতা নতুন নয়। তবে এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

কুষ্টিয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনা এখন শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়—এটি হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের একটি বড় পরীক্ষা।



ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম