নিজস্ব প্রতিবেদক, মেহেরপুর
মেহেরপুরের সবুজ প্রান্তরে উন্নয়নের নতুন স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিল জিয়া খালের পুনঃখনন কার্যক্রম। সদর উপজেলার বলিয়ারপুর গ্রামে ২৪ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখননের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (বিকাল সাড়ে ৪টা) এক প্রাণবন্ত পরিবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাটি কেটে কাজের সূচনা করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। উদ্বোধনের পর খালপাড়ে একটি গাছের চারা রোপণ করে তিনি পরিবেশ রক্ষার বার্তাও দেন।
পরে বলিয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখনন শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়—এটি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পুনর্জাগরণের এক শক্তিশালী উদ্যোগ। তিনি উল্লেখ করেন, খাল খননের ফলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে। একইসঙ্গে খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের কৃষি উন্নয়নের ইতিহাসে খাল খনন কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর দূরদর্শী চিন্তা থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গ্রামের উন্নয়নই আমাদের অগ্রাধিকার। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছি।”
জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দ।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন ও আমজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন স্তরের প্রকৌশলীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ প্রকল্পকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। তাদের বিশ্বাস, খাল পুনঃখননের ফলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, জমির উর্বরতা ফিরবে এবং কৃষি উৎপাদনে আসবে নতুন গতি—যা বদলে দেবে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |