| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় ভূমি অফিস নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, স্টিলের জ্যাকের বদলে বাঁশ!

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 27-10-2026 ইং
  • 458 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় ভূমি অফিস নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, স্টিলের জ্যাকের বদলে বাঁশ!
ছবির ক্যাপশন: ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার প্রকল্পে নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন, নিম্নমানের ইট বদলালেও কাটেনি বিতর্ক—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থায়নে ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতিতে স্টিলের জ্যাকের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। এর আগে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ইট পরিবর্তন করা হলেও নির্মাণকাজের সামগ্রিক মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।

সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মাণসামগ্রীর মান, প্রকৌশলগত নিরাপত্তা এবং কাজের যথাযথ তদারকি নিয়ে এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

৯৬ লাখ টাকার প্রকল্প, শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে প্রাচীরসহ একতলা তিন কক্ষবিশিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণে বরাদ্দ রয়েছে ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কার্যালয়ের আওতায় দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পান মিরপুরের ঠিকাদার আইজুদ্দিন।

পরে তাঁর কাছ থেকে কাজটি কিনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান ঝন্টুর বিরুদ্ধে। নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্ব ইউনিয়নের দুই সদস্য ওয়াজেদ ও শহিদুলকে দেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে কাজ হস্তান্তর বা এ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরুতেই প্রায় ১০ হাজার নিম্নমানের ইট এনে জমা করা হয়েছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালে পরে ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ইট পরিবর্তনের পরও নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান, সিমেন্টের যথাযথ ব্যবহার এবং অন্যান্য উপকরণ নির্ধারিত মান অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।

এ ছাড়া ভবনের প্রাচীর নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনের প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মান নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই করছে কে?

ছাদ ঢালাইয়ে বাঁশের সাপোর্ট, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

নির্মাণস্থলে ছাদ ঢালাইয়ের সাটারিংয়ে স্টিলের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এ নিয়ে নির্মাণকাজের নিরাপত্তা ও সাপোর্ট ব্যবস্থার উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নির্মাণকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন—এমন একজন ঠিকাদার জানান, ছাদ ঢালাইয়ের সময় ব্যবহৃত সাটারিং ও সাপোর্টের ভার বহনক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৌশলগত হিসাব ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ না করে সাপোর্ট ব্যবহার করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রকৌশলগত বিবেচনায় সাটারিংয়ের উপকরণ নির্বাচন করতে হয় কাঠামোর ভার, সাপোর্টের সক্ষমতা, স্থাপনপদ্ধতি ও প্রযোজ্য নির্মাণবিধি অনুসারে। বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে—শুধু এ তথ্যের ভিত্তিতে কাজটি অনিরাপদ বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে ব্যবহৃত সাপোর্টের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা যাচাই না করে ঢালাইয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হলে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

এ ক্ষেত্রে নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর সরেজমিন পরিদর্শন, সাটারিংয়ের নিরাপত্তা যাচাই এবং অনুমোদিত নকশা ও কার্যাদেশের সঙ্গে কাজের বাস্তব অবস্থার মিল পরীক্ষা করা জরুরি।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার, তদন্তের আশ্বাস

নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এলজিইডির এসও আসাদুর রহমান অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না এবং কোথাও বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে প্রথম দিকে নিম্নমানের ইট পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

কুষ্টিয়া জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ বলেন, “সরকারি যেকোনো কাজে দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। সরকারি নিয়মনীতি মেনেই কাজ করতে হবে।”

অন্যদিকে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রোশান আহমেদ বলেন, নির্মাণকাজে অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। কাজটি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস পাওয়া গেলেও নির্মাণস্থলের বাস্তব অবস্থা, ব্যবহৃত উপকরণের মান এবং সাটারিংয়ের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।

জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি

একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস কেবল সরকারি ভবন নয়; এটি স্থানীয় মানুষের ভূমিসংক্রান্ত সেবা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ ভবনের নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ সত্য হলে তা সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্থাপনার স্থায়িত্ব এবং জননিরাপত্তা—তিনটি বিষয়কেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

এ কারণে নির্মাণকাজের নিরপেক্ষ তদন্ত, ইটসহ ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা, সাটারিং ও সাপোর্টের প্রকৌশলগত সক্ষমতা যাচাই এবং কাজের পরিমাপ ও ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে দরপত্রের শর্ত, অনুমোদিত নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধন করা জরুরি। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে বিভ্রান্তি দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনার ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখানোই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তবে গুণগত মান, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণকাজ নিয়ে ওঠা অভিযোগের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই পারে প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম