| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় সার নিয়ে কৃষক-ডিলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 23-09-2026 ইং
  • 95 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় সার নিয়ে কৃষক-ডিলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: কৃষি বিভাগের দাবি—সারের সংকট নেই, কৃষকের অভিযোগ—চাহিদামতো মিলছে না সময়মতো

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ায় কৃষি মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া নিয়ে কৃষক ও সরকারি নিবন্ধিত সার ডিলারদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময়ে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ সার না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে ডিলারদের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী তারা নিয়মিত সার উত্তোলন ও কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছেন।

ফলে সরকারি হিসাব ও মাঠের বাস্তবতার মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অসামঞ্জস্য। বিষয়টি নিয়ে কৃষক, ডিলার ও কৃষি বিভাগের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপির মতো প্রয়োজনীয় সার নির্দিষ্ট সময়ে না পেলে চাষাবাদের পুরো পরিকল্পনাই ব্যাহত হয় বলে অভিযোগ তাদের। অনেক কৃষকের দাবি, বাজারে সার একেবারে নেই—এমন নয়; তবে প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না।

এক কৃষক বলেন, “কৃষি অফিস থেকে বলা হচ্ছে সার পর্যাপ্ত আছে। কিন্তু আমরা দোকানে গিয়ে চাহিদামতো সার পাচ্ছি না। একাধিক দোকানে ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।”

আরেক কৃষকের ভাষ্য, “সার সংকট নেই বলা হলেও মাঠে তার প্রতিফলন সব সময় দেখা যায় না। ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার পাওয়া আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

অন্যদিকে সরকারি নিবন্ধিত সার ডিলাররা কৃষকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী তারা সার উত্তোলন করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছেন। কোনো কোনো সময় চাহিদা একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সেটিকে সার সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি তাদের।

এক সার ডিলার বলেন, “আমরা নিয়মিত সার উত্তোলন করছি এবং কৃষকদের সরবরাহ দিচ্ছি। আমাদের পক্ষ থেকে সার গোপন বা কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই। বরাদ্দ ও সরবরাহ অনুযায়ী কৃষকদের সার দেওয়া হচ্ছে।”

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বলছেন, জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় সারের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি নেই। তাদের মতে, কোথাও স্থানীয়ভাবে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সার মজুত, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি রয়েছে।

কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “কুষ্টিয়ায় বর্তমানে সারের কোনো সামগ্রিক সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কৃষকদের অভিযোগ আর ডিলারদের বক্তব্যের এই বিপরীত চিত্রে প্রশ্ন উঠছে—সরকারি সরবরাহব্যবস্থায় যদি পর্যাপ্ত সার থাকে, তাহলে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার পেতে কেন ভোগান্তি হচ্ছে?

কৃষকদের দাবি, শুধু গুদামে বা ডিলারের কাছে সার থাকার হিসাব দিলেই হবে না; কৃষকের জমিতে প্রয়োজনের সময়ে সেটি পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয়। আর ডিলারদের বক্তব্য, বরাদ্দ ও বিতরণের হিসাব যাচাই করলেই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।

কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে এমন দ্বিমুখী বক্তব্য কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাই প্রকৃত পরিস্থিতি নিরূপণে ডিলার পর্যায়ের মজুত, বরাদ্দ, উত্তোলন ও বিক্রির হিসাবের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষকরা কতটা সার পাচ্ছেন—তা সরেজমিনে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

কৃষকদের প্রত্যাশা, সার নিয়ে কোনো কৃত্রিম সংকট বা সরবরাহে অসামঞ্জস্য থাকলে দ্রুত তা দূর করা হবে। কারণ কৃষকের কাছে সার শুধু একটি কৃষি উপকরণ নয়—সময়ের সঙ্গে যার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে ফসলের উৎপাদন ও জীবিকার।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম