কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতল ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় সভাপতির বাসভবনে দুর্বৃত্তদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনদুপুরে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত হঠাৎ করেই ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুল হান্নানের বাড়িতে হামলা চালায়। সে সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত না থাকায় দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত তিনজন নারী আহত হন। পরে তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে পরিবারটির অভিযোগ। আকস্মিক এই হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল হান্নান বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউজ্জামান জিকোসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানান। সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল আউয়াল বাদশাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে; কিন্তু সন্ত্রাস, সহিংসতা ও প্রতিহিংসার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কেবল একটি পরিবার বা রাজনৈতিক দলের ক্ষতি নয়; বরং এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতির ওপর আঘাত। তারা সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং এলাকায় শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |