কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
রাতের আঁধারে সীমান্তপথে মাদক ও চোরাচালানি পণ্য ঢোকানোর তৎপরতা থামছে না। তবে এবার সেই তৎপরতায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কুষ্টিয়া সীমান্তে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল।
উদ্ধার হওয়া পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পাতার বিড়ি, ডেক্সামেথাসন ও সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৯ কেজি গাঁজা। তবে অভিযানের সময় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা যায়নি। ফলে সীমান্তের ওপার থেকে এসব পণ্য কারা আনছিল এবং স্থানীয়ভাবে এর ক্রেতা বা সরবরাহকারী কারা—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত সীমান্তের পৃথক তিনটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে মোট ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ টাকা আনুমানিক সিজার মূল্যের পণ্য উদ্ধার করা হয়।
কাশেম বাজারে বিড়ির চালান
প্রথম অভিযানটি চলে ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাশেম বাজারে। বিজিবির একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ৩২০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত বিড়ির আনুমানিক সিজার মূল্য ৭২ হাজার ৬০০ টাকা।
মালামাল পড়ে থাকলেও এর মালিকের দেখা মেলেনি। ফলে সীমান্তপথে এসব পণ্য আনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করাই এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কবরস্থানে মিলল বড় চালান
সবচেয়ে বড় চালানটি উদ্ধার হয় ৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে। চিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মরার পাড়া কবরস্থান এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজিবি উদ্ধার করে ১ হাজার ৯৮০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ২ হাজার ৮০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৬০০ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি।
এই চালানের আনুমানিক সিজার মূল্য ১২ লাখ ৫১ হাজার টাকা—তিন অভিযানে উদ্ধার হওয়া মোট পণ্যের সিংহভাগই এই চালানের।
সীমান্তের নির্জন এলাকা, বিশেষ করে রাতের অন্ধকার ও ফাঁকা স্থানকে ব্যবহার করে চোরাচালানের পণ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকে। তবে এ অভিযানে বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য ও টহল তৎপরতার কারণে চালানটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।
ভোরের অভিযানে ৯ কেজি গাঁজা
এরপর ৭ সেপ্টেম্বর ভোর সোয়া ৪টার দিকে বিলগাথুয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার দক্ষিণ বিলগাথুয়া মাঠে অভিযান চালায় বিজিবি। সেখানে মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৯ কেজি গাঁজা। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩১ হাজার ৫০০ টাকা।
এক রাতের ব্যবধানে সীমান্তের তিনটি পয়েন্টে পরপর এসব চালান উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী গোয়েন্দা নজরদারির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।
উদ্ধার হচ্ছে পণ্য, অধরা কারবারিরা
বিজিবির অভিযানে প্রায় ১৪ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার হলেও কোনো পাচারকারী আটক না হওয়ায় সামনে এসেছে আরেকটি বাস্তবতা—চালান ধরা পড়ছে, কিন্তু চালানের নেপথ্যের মানুষগুলো কোথায়?
তবে এসব পণ্যের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তির নাম বা পরিচয় জানানো হয়নি। তাই কাউকে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত করার সুযোগও নেই।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, অবৈধ পারাপারসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।
সীমান্তে ধারাবাহিক অভিযানে মাদক ও চোরাচালানি পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি এসব চালানের উৎস, পরিবহনকারী এবং স্থানীয় নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে মূল কারবারিদের আইনের আওতায় আনা যায় কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |