কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর, ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চলতি মৌসুমে আবারও রমরমা তামাক চাষ। চোখের সামনে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের কণ্ঠে কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে— “দেখেও দেখে না, শুনেও শোনে না—এ যেন সরিষার মধ্যে ভূত।”
টোব্যাকো কোম্পানিগুলোর আর্থিক সহায়তা, বীজ-সার সরবরাহ এবং উৎপাদিত তামাক কেনার নিশ্চয়তা—এই তিন প্রলোভনে কৃষকরা ধান, গম, ডাল ও সবজির মতো রবি ফসল ছেড়ে ঝুঁকছেন তামাক চাষে। লাভের হিসাব মিললেও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ভার যে কতটা ভয়াবহ, তা অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না।
গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরলে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় তামাক শুকানো ও পোড়ানোর প্রস্তুতি। পরিবেশ সুরক্ষার নামে লাগানো গাছ কেটে বানানো হয়েছে সারি সারি খামাল। কোথাও স্তূপ করে রাখা খড়ি, কোথাও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ-বাতাস। দিনের পর দিন তামাক পোড়ানোর ফলে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে, দূষিত হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জলাশয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক চাষ জমির উর্বরতা দ্রুত ধ্বংস করে। মাটির জৈব উপাদান কমে যায়, ভবিষ্যতে ওই জমিতে অন্যান্য ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তামাক পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণিকা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ত্বকের সমস্যা ও চোখের জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়। শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ পরিবারের প্রায় সবাই এই কাজে যুক্ত থাকেন। দীর্ঘ সময় বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করায় তারা অজান্তেই নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। পরিবেশবিদ ও চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এভাবে তামাক উৎপাদন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এসব এলাকার মানুষ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—সব জেনেও কেন এই নীরবতা? কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও দিকনির্দেশনার অভাবে কৃষকরা বিকল্প ফসলের পথে হাঁটতে সাহস পাচ্ছেন না। আর্থিক প্রণোদনার লোভ, বাজার অনিশ্চয়তা এবং কার্যকর প্রশিক্ষণের অভাব তামাক চাষের এই চক্রকে আরও শক্তিশালী করছে।
সুশীল সমাজ ও পরিবেশ আন্দোলনকারীদের মতে, এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে কুষ্টিয়ার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য আরও গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাবে। পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবন সুরক্ষায় তামাকের বিকল্প লাভজনক ফসল চাষে প্রণোদনা, কঠোর নজরদারি, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য নিরাপদ বাজার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |