| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়িতে জমিবিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 22-08-2026 ইং
  • 327 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়িতে জমিবিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ছবির ক্যাপশন: পাটিকাবাড়িতে চাঁদা দাবি ও দখলচেষ্টার অভিযোগ, অস্বীকার অপর পক্ষের—নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পাটিকাবাড়ী এলাকায় জমি ও সম্পত্তির মালিকানা এবং ভোগদখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। বিরোধকে ঘিরে মো. শাহিনের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, বসতভিটা ও জমিজমা দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগে পাটিকাবাড়ী গ্রামের সুরুজ খান, আরিফ খান, হক সাহেব ও রিপন খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, নিজেদের সম্পত্তির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা দাবি করেন, কারও জমি দখল কিংবা চাঁদা দাবি করার সঙ্গে তারা জড়িত নন।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, বসতভিটার আওতায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমি রয়েছে। এসব জমির মধ্যে কয়েকটি পুকুর, বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও বাগান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্তদের দাবি, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত বিষয় আড়াল করে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, তারা নিজেদের সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো হয়রানি ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়ছেন।

জানা গেছে, বিরোধ নিরসনে অতীতেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মাত্রা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর মতে, জমি ও সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ শুধু দুই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের ওপরও পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ধরনের বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে। ফলে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই বিষয়টি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত আইনানুগ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা কার, বৈধ কাগজপত্র কার পক্ষে রয়েছে, কার ভোগদখল আইনসঙ্গত এবং চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা দখলচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সেটিও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরাজমান সন্দেহ ও উত্তেজনা কমার পাশাপাশি প্রকৃত মালিকানা ও দায়-দায়িত্বের বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোনো পক্ষের প্রভাব, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা সামাজিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত দলিল যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।

পাটিকাবাড়ীর দীর্ঘদিনের এই জমিবিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিবর্তে এখন প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, আইনসম্মত প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ সমাধান। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অভিযোগের আড়ালে নয়, সত্য উদঘাটনের মধ্য দিয়েই এই বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তির পথ খুলবে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম