| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন বিলীন শত শত বিঘা ফসলি জমি, সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় পদ্মাপাড়ের কৃষক

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 09-08-2026 ইং
  • 1087 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন বিলীন শত শত বিঘা ফসলি জমি, সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় পদ্মাপাড়ের কৃষক
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন বিলীন শত শত বিঘা ফসলি জমি, সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় পদ্মাপাড়ের কৃষক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

পদ্মার ভাঙনে একের পর এক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। চোখের সামনে পাটখেত, পশুখাদ্যের ঘাস আর উর্বর আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের কৃষকেরা। নদীর স্রোতের সঙ্গে যেন ভেসে যাচ্ছে তাদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্নও।

উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে পদ্মার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙনে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক কৃষকের প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। বিলীন হয়েছে পাটখেত, পশুখাদ্যের ঘাসসহ বিভিন্ন ফসল। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আশপাশের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন করে আতঙ্ক।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ ও পদ্মার তীব্র স্রোতে নদীর পাড়ে প্রতিদিনই নতুন করে ধস নামছে। কোথাও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কয়েক হাত জমি নদীতে চলে যাচ্ছে, আবার কোথাও বড় অংশ ভেঙে পড়ছে একসঙ্গে। ফলে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের জমি হারানোর দৃশ্য দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার নেই কৃষকদের।

কোলদিয়াড় গ্রামের কৃষক নেন্টু মিয়া বলেন, “গত ১৫ দিনে আমার প্রায় আট বিঘা পাটখেত নদীতে চলে গেছে। যে জমির ফসল বিক্রি করে সংসার চালানোর স্বপ্ন দেখেছিলাম, এখন সেই জমিই নেই।”

মাজদিয়াড় গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী জানান, তাঁর প্রায় পাঁচ বিঘা জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ওই জমিতে পাট ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ঘাস আবাদ করেছিলেন। জমির সঙ্গে ফসলও হারিয়েছেন তিনি। সামনে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

শুধু নেন্টু মিয়া কিংবা ইউসুফ আলী নন—পদ্মাপাড়ের বহু কৃষকের একই অবস্থা। বছরের পর বছর যে জমি তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল, নদীর করাল গ্রাসে তা এখন অতীত। কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও বিস্তীর্ণ আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন এ অঞ্চলের মানুষের কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এবারের ভাঙনের তীব্রতা ও বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কখন যে বসতভিটাতেও ভাঙন আঘাত হানে, সেই আতঙ্কে রাত কাটছে অনেকের।

কৃষকদের দাবি, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীর সংরক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তার আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

পদ্মার ভাঙন শুধু কয়েকশ বিঘা জমি হারানোর ঘটনা নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষকের ঘাম, পরিবারের জীবিকা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দৌলতপুরের পদ্মাপাড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম