| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ভিক্ষার ঝুলি থেকে জীবিকার পথে, দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের হাতে দুই ছাগল, আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এমপি বাচ্চু মোল্লা

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 30-07-2026 ইং
  • 2777 বার পঠিত
ভিক্ষার ঝুলি থেকে জীবিকার পথে, দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের হাতে দুই ছাগল, আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এমপি বাচ্চু মোল্লা
ছবির ক্যাপশন: ভিক্ষার ঝুলি থেকে জীবিকার পথে, দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের হাতে দুই ছাগল, আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এমপি বাচ্চু মোল্লা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

একদিন যাঁদের জীবিকার তাগিদে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হতো, তাঁদের হাতেই এখন উঠেছে জীবিকার নতুন অবলম্বন। ভিক্ষার ঝুলি সরিয়ে কর্মের পথে ফিরিয়ে আনতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার অসহায় ভিক্ষুকদের মাঝে দুটি করে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার উদ্যোগে নেওয়া এই কর্মসূচি ঘিরে অসহায় মানুষের জীবনে দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো।

ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ছাগল পাওয়ার পর উপকারভোগীদের অনেকেই এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা—ছাগল পালন করে আয় বাড়বে, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরবে, একদিন হয়তো আর কারও কাছে জীবিকার জন্য হাত পাততে হবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দারিদ্র্য বিমোচনে এককালীন অর্থ সহায়তার চেয়ে মানুষের হাতে আয় করার উপকরণ তুলে দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর ও টেকসই। সেই বিবেচনায় ভিক্ষুকদের ছাগল বিতরণের উদ্যোগটি হতে পারে আত্মনির্ভরতা সৃষ্টির একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। ছাগল পালন থেকে আয় করার পাশাপাশি বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পদও বাড়তে পারে। এতে পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সম্মানজনক জীবনে ফেরার পথও তৈরি হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, মানুষের হাতে শুধু সাহায্য তুলে দিলে সাময়িক সংকট কাটে; কিন্তু জীবিকার উপকরণ তুলে দিলে তৈরি হয় স্থায়ী সম্ভাবনা। দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের হাতে দুটি করে ছাগল তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি সেই সম্ভাবনারই প্রতীক। এটি অসহায় মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করবে এবং তাঁদের নিজেদের ও পরিবারের জন্য উপার্জনক্ষম করে তুলতে সহায়তা করবে।

তবে উদ্যোগটির সুফল দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত করতে উপকারভোগীদের নিয়মিত তদারকি, পশু চিকিৎসা, ছাগল পালনের প্রশিক্ষণ এবং উৎপাদিত পশু বাজারজাতকরণে সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব সহায়তা অব্যাহত থাকলে কর্মসূচিটি শুধু ছাগল বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভিক্ষাবৃত্তি নিরসন ও দারিদ্র্য বিমোচনের একটি কার্যকর মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

এ উদ্যোগ যেন একটি বার্তাই দিচ্ছে—মানুষকে শুধু সাহায্য নয়, সুযোগ দিতে হয়; শুধু ভিক্ষার পাত্র নয়, জীবিকার পথ দেখাতে হয়। দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের হাতে দুটি করে ছাগল তুলে দেওয়ার এই কর্মসূচি তাই নিছক সহায়তা নয়; বরং ভিক্ষার ঝুলি থেকে আত্মমর্যাদার জীবনে ফেরার এক সম্ভাবনাময় যাত্রা।

আজ যাঁদের হাতে ছাগল, আগামী দিনে তাঁদের হাতেই হয়তো থাকবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি। মানুষের কাছে হাত পাতা নয়—নিজের শ্রমে আয়, নিজের ঘরে স্বচ্ছলতা আর আত্মমর্যাদায় বেঁচে থাকার স্বপ্নই এখন তাঁদের সামনে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম