| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে কৃষির সংকট—জিকে সেচ প্রকল্প চালুর দাবিতে কুষ্টিয়ায় কৃষকদের জাগরণ

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 17-05-2026 ইং
  • 16676 বার পঠিত
বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে কৃষির সংকট—জিকে সেচ প্রকল্প চালুর দাবিতে কুষ্টিয়ায় কৃষকদের জাগরণ
ছবির ক্যাপশন: বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে কৃষির সংকট—জিকে সেচ প্রকল্প চালুর দাবিতে কুষ্টিয়ায় কৃষকদের জাগরণ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা কৃষিখাতকে ঘিরে নতুন করে শঙ্কা ও প্রত্যাশার সুর একসঙ্গে ধ্বনিত হচ্ছে। সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে কৃষির স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা যখন কৃষকসমাজকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ার মাটিতে উচ্চারিত হলো প্রতিবাদের দৃপ্ত উচ্চারণ। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ভেঙে জিকে সেচ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবিও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বৃত্তিপাড়া বাজারে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি, কুষ্টিয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে এক প্রাণবন্ত কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সভাপতি আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলার সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন ফারুক।

সভায় বক্তারা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দেশের কৃষি ও কৃষকের অস্তিত্ব রক্ষায় যেকোনো স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, কৃষকের ন্যায্য মূল্য ও অধিকার নিশ্চিত না হলে কৃষি অর্থনীতি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

কর্মিসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের জেলা সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক আসাদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা আহ্বায়ক সোলায়মান পারভেজ, কৃষক সংগ্রাম সমিতির মিরপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুল ইসলাম, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ, সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং কুমারখালি উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন—সরকারি ব্যবস্থাপনায় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়, নির্ধারিত মূল্যে সার, ডিজেল ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা। পাশাপাশি হাট-বাজারে ওজনে কারচুপি বন্ধ, ‘ঢলতা’ প্রথা বিলুপ্ত এবং তোলা আদায়ের স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়।

সভায় জিকে সেচ প্রকল্পের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, এই প্রকল্প চালু হলে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে, যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সভা থেকে আগামী ২৪ জুন জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৫ জুলাই একটি শিক্ষা শিবির আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে কৃষক-জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

কৃষকদের বিশ্বাস, সংগঠিত ও সচেতন আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্ভব। কুষ্টিয়ার এই কর্মিসভা যেন সেই আন্দোলনেরই এক নবতর সূচনা—যেখানে কৃষকের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে বাঁচার দাবি, ন্যায়ের দাবি, আর একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রত্যাশা।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম