| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন সপ্তাহপ্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে অধিকার, ন্যায় ও কর্মের সমন্বয়ের আহ্বান

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 14-03-2026 ইং
  • 137 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন সপ্তাহপ্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে অধিকার, ন্যায় ও কর্মের সমন্বয়ের আহ্বান
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন সপ্তাহপ্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে অধিকার, ন্যায় ও কর্মের সমন্বয়ের আহ্বান

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)। সংগঠনটি বলছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি একদিকে নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও তথ্যপ্রাপ্তির নতুন দ্বার উন্মুক্ত করেছে; অন্যদিকে অনলাইন পরিসরে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার নতুন ঝুঁকিও সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন সপ্তাহ উপলক্ষে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত সহিংসতা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি বা হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, সাইবার স্টকিং, ডিজিটাল নজরদারি, গোপন রেকর্ডিং, পরিচয় চুরি, জিপিএস ট্র্যাকিং এবং ভুয়া আইডির মাধ্যমে চরিত্রহননের মতো নানা ঘটনার মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা হুমকির মুখে পড়ছে। এসব অপরাধ অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই নারীর স্বাধীনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণকে সংকুচিত করে দিচ্ছে।

বিএনএনআরসি মনে করে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এ ধরনের সহিংসতাকে অনেক সময় ‘অনলাইন ঝামেলা’ বা ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ হিসেবে হালকাভাবে দেখা হয়। অথচ এর প্রভাব গভীর ও সুদূরপ্রসারী। একটি কিশোরী স্কুলে যেতে ভয় পেতে পারে, একজন শিক্ষার্থী সামাজিক অপমানের চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে, কর্মজীবী নারী চাকরি হারানোর আশঙ্কায় নীরব থাকতে বাধ্য হন। একইভাবে নারী সাংবাদিক বা অধিকারকর্মীরা অনলাইন আক্রমণের কারণে জনপরিসর থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। ফলে এই সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং নারীর নাগরিক অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও বাধাগ্রস্ত করে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা এখনও সমানভাবে গড়ে ওঠেনি। শহর ও গ্রামের ব্যবধানের পাশাপাশি নারী-পুরুষের ডিজিটাল সক্ষমতার পার্থক্যও স্পষ্ট। অনেক পরিবারে মেয়েদের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও নিরাপদ ব্যবহারের শিক্ষা দেওয়া হয় না, ফলে তারা ঝুঁকির মুখে পড়লেও আত্মরক্ষার কৌশল সম্পর্কে অবগত থাকে না।

বিএনএনআরসি দীর্ঘদিন ধরে নারীর তথ্যপ্রাপ্তি, মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছে। সম্প্রতি বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় মাঠপর্যায়ে সংলাপ, কর্মশালা ও অংশীজনভিত্তিক আলোচনায় যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার অভাব, অভিযোগ করতে ভয়, সামাজিক কলঙ্ক, বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নারীদের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

এই বাস্তবতায় ‘অধিকার, ন্যায় ও কর্ম’—এই তিনটি ভিত্তির ওপর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, নারীর ডিজিটাল অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং নিরাপদে মতপ্রকাশ, শিক্ষা গ্রহণ ও যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইনি প্রতিকার সহজলভ্য ও ভুক্তভোগীবান্ধব করতে হবে, যাতে অভিযোগ দাখিল, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়।

সংগঠনটি আরও প্রস্তাব করেছে—জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত করা, জেলা পর্যায়ে প্রতিরোধ কমিটি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া টাস্কফোর্স গঠন করা এবং বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কার্যপরিধিতে এ বিষয়টি যুক্ত করা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনলাইন অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা, সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা ভুয়া আইডির ঘটনায় দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনগত সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

বিএনএনআরসি মনে করে, নারীর জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ বা স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য পূর্ণতা পাবে না। প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ববোধ, সুরক্ষা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তাও সমানভাবে জোরদার করতে হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিএনএনআরসি ‘স্ট্রেংদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি-ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার-বেইসড ভায়োলেন্স অ্যান্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এটি নাগরিকতা: সিভিল এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে GFA Consulting Group এবং অর্থায়ন করছে Switzerland, Global Affairs Canada ও European Union।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সংগঠনটির প্রত্যাশা—অধিকার, ন্যায় ও কার্যকর উদ্যোগের সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠবে নারীর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সমাজ।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম