| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষিকা হত্যা: ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শোক আর ক্ষোভে উত্তাল ক্যাম্পাস

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 05-03-2026 ইং
  • 63 বার পঠিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষিকা হত্যা: ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শোক আর ক্ষোভে উত্তাল ক্যাম্পাস
ছবির ক্যাপশন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষিকা হত্যা: ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শোক আর ক্ষোভে উত্তাল ক্যাম্পাস

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৮) হত্যাকাণ্ডে চারজনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বিশ্ববিদ্যালয় থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দাফনে জনতার ঢল, শোকে স্তব্ধ নগরী

বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তানে আসমা সাদিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. ইয়াকুব আলীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শোকাহত পরিবেশে সবার একটাই দাবি—দ্রুত বিচার।

এর আগে সকালে ময়নাতদন্ত শেষে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শহরের কোর্টপাড়ার বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রায় এক যুগের দাম্পত্য জীবনে রেখে গেলেন তাইবা (৯), তাবাসসুম (৭), আয়েশা (৭ মাস) ও সাজিদ (৫)—চারটি অবুঝ সন্তান। মায়ের নিথর মুখের কাছে ছুটে যাওয়া শিশুদের কান্না উপস্থিত সবাইকে অশ্রুসিক্ত করে তোলে।

নিহতের বাবা শ ম আশিকুল হক বিলাপ করে বলেন, “মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। এখন তার চারটা বাচ্চা মা-হারা হয়ে গেল। ছোট্ট শিশুটার ভবিষ্যৎ কী হবে?”

নেপথ্যে কী?

প্রাথমিকভাবে কর্মচারী ফজলুর রহমানের বদলি ও বেতনসংক্রান্ত ক্ষোভ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে—এমন ধারণা উঠলেও নিহতের স্বামী ও স্বজনেরা তা মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, এর পেছনে অন্যদের ইন্ধন থাকতে পারে। তাই চারজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত ফজলুর রহমান নিজ গলায় আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম জানান, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শ্বাসনালিতে আঘাত থাকায় কথা বলতে পারছেন না, তবে সাড়া দিচ্ছেন। পুলিশ তাঁর লিখিত জবানবন্দি নিয়েছে।

চিকিৎসক আরও জানান, নিহত শিক্ষিকার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বিচার দাবিতে উত্তাল শিক্ষার্থীরা

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। সকালে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সেখানে বক্তারা বলেন, “শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, দোষীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

একজন শিক্ষিকার এভাবে প্রাণহানির ঘটনায় শুধু একটি পরিবার নয়, স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস। সহকর্মীদের চোখে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের কাছে স্নেহময় অভিভাবক। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

এখন সবার অপেক্ষা—সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা, এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম