কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
বাংলা সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার তীর্থভূমি লালন শাহের মাজার–এর পাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যে স্থান একসময় ছিল ভাবগম্ভীর বাউল সুর, দর্শনার্থীর ভিড় আর শান্ত পরিবেশের প্রতীক—সেই পরিবেশেই এখন দেখা যাচ্ছে স্কুলপড়ুয়া কিশোরদের সন্দেহজনক আনাগোনা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাজারসংলগ্ন কিছু নির্জন কোণে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের গোপন কার্যক্রম চলে। বিশেষ করে স্কুল ছুটির পর কিশোরদের একটি অংশকে সেখানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়, যা অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।
একজন স্থানীয় শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যালয় ছুটির পর অনেক শিক্ষার্থী এখানে আসে। সঠিক তদারকি না থাকলে তারা সহজেই খারাপ সঙ্গের প্রভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। এটি আমাদের ছাত্রসমাজের জন্য অশনিসংকেত।”
এক অভিভাবক জানান, “আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠুক। কিন্তু যদি দর্শনীয় স্থানেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। পরিবার ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ অবস্থা থেকে উত্তরণ কঠিন।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের কিশোর সমাজকে বিপথগামী হতে দেওয়া যাবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিবারগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ–এর এক কর্মকর্তা জানান, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি কিশোরদের সচেতন করতে স্কুলভিত্তিক কমিউনিটি কর্মশালা ও অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হবে। “মাদক বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”—বলেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত সচেতনতা কার্যক্রমই পারে কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে। ঐতিহ্যবাহী লালনের দর্শন যেমন মানবতা ও আত্মশুদ্ধির কথা বলে, তেমনি সেই দর্শনের আলোতেই গড়ে উঠতে পারে একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ সমাজ—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |