কুষ্টিয়ার বুকে পদ্মার নীল জলে ইতিহাস আর বর্তমানের এক অপূর্ব মেলবন্ধন—এক পাশে শতবর্ষী স্থাপত্যের গৌরব পাকশী হার্ডিং ব্রিজ, আরেক পাশে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতীক লালন শাহ সেতু। এই দুই সেতুর মাঝখানে কিছু সময় কাটাতে গিয়েই যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল কুষ্টিয়ার বহুমাত্রিক রূপ।
পদ্মার বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা হার্ডিং ব্রিজ কেবল একটি রেলসেতু নয়, এটি এক ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই স্থাপনা আজও বহন করছে প্রকৌশল দক্ষতার অনন্য নিদর্শন। ট্রেন ছুটে গেলে সেতুর লোহার কাঠামোয় যে কম্পন ওঠে, তা যেন সময়ের স্রোতে ভেসে আসা শত বছরের গল্প শোনায়। নদীর ঢেউ আর লোহার শব্দ মিলে সৃষ্টি করে এক অন্যরকম সুর।
অন্যদিকে লালন শাহ সেতু আধুনিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার প্রতীক। যানবাহনের অবিরাম চলাচল, কর্মচঞ্চল মানুষের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহকে গতিশীল রেখেছে। দুই সেতুর মাঝে দাঁড়িয়ে বোঝা যায়, কুষ্টিয়া কেবল ঐতিহ্যের শহর নয়; এটি উন্নয়ন আর সম্ভাবনারও শহর।
নদীপাড়ে দেখা মিলল জেলেদের নৌকা, জাল ফেলে মাছ ধরার দৃশ্য, আর দূরে চর জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ড। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এই দুই সেতু ঘিরেই তাদের জীবন-জীবিকা, স্মৃতি আর স্বপ্ন। কেউ বললেন, ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে হার্ডিং ব্রিজ দেখতে এসেছিলেন; কেউ আবার জানান, লালন শাহ সেতু চালু হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যে এসেছে নতুন গতি।
বিকেলের রোদ ধীরে ধীরে নরম হয়ে এলে পদ্মার জলে পড়ে সোনালি আভা। তখন মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন কুষ্টিয়ার এই ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলনস্থলকে আশীর্বাদ করছে। এখানে দাঁড়িয়ে অনুভব করা যায়—সময়ের সেতুবন্ধন কাকে বলে।
সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততার ফাঁকে এই স্বল্প সময় যেন মনে করিয়ে দিল, কুষ্টিয়ার প্রকৃতি, ইতিহাস ও উন্নয়ন একসূত্রে গাঁথা। পাকশী হার্ডিং ব্রিজ আর লালন শাহ সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাই উপলব্ধি হলো—এ শহর কেবল মানচিত্রের একটি নাম নয়, এটি গল্প, গৌরব আর গতির অনন্ত ধারাবাহিকতা।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |