কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
বাংলার শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ভুট্টার সবুজ সমারোহ। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ ঢেউ দোল খাচ্ছে প্রকৃতির বুকে। এ দৃশ্য যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, তেমনি কৃষকদের মনে জাগিয়েছে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন ও আশার আলো।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভুট্টা চাষে নতুন উদ্যম দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কুমারখালী, ভেড়ামারা এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এলাকার মাঠগুলোতে নতুন প্রজাতির ভুট্টা চাষ করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। তারা জানিয়েছেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে উন্নতমানের বীজ, সুষম সার এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এবারের ফলন গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, “এবার ভুট্টার ক্ষেতে আমরা বাড়তি যত্ন নিয়েছি। আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং বীজের মান ভালো হওয়ায় ফসল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে সারা বছরই ভালো উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভুট্টা একটি বহুমুখী ও লাভজনক ফসল। এটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পশুখাদ্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, সঠিক সময়ে জমি পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এ বছর জেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলন অর্জন সম্ভব।
এদিকে সম্ভাব্য ভালো ফলনের খবরে ইতোমধ্যেই স্থানীয় বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং এর মাধ্যমে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ভুট্টা চাষ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। অনেক কৃষক এই ফসলের ওপর নির্ভর করেই দারিদ্র্য কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন।
মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায়, পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে কৃষকেরা ভুট্টার সারি ধরে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের মুখে ফুটে উঠেছে পরিশ্রমের সন্তুষ্টি আর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। সবুজে মোড়ানো মাঠ যেন গ্রামীণ জীবনের প্রাণচিত্র হয়ে উঠেছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুষ্টিয়ায় ভুট্টা চাষ প্রতিবছরই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার ফলে বাম্পার ফলনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে শুধু কৃষকই নয়, জেলার সামগ্রিক অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |