মো. মুনজুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থা—এমন দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে মূলধারার স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সরকারিভাবে স্বীকৃতি পেলেও স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এ চিকিৎসা পদ্ধতি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। ডিএইচএমএস চিকিৎসকদের জন্য এখনো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। পরবর্তীতে বিএইচএমএস ডিগ্রি চালু হলেও স্বাস্থ্যসেবা খাতে তাদের অংশগ্রহণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নিশ্চিত করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী হোমিও আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ জানান, বিভিন্ন সময় সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাস্থ্যখাতে জনবল নিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও সেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর স্বাস্থ্য উইং এলোপ্যাথির পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি, ইউনানি, আয়ুর্বেদ ও হারবাল চিকিৎসা চালুর ঘোষণা দেওয়ায় সংগঠনটি তা স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের স্বাস্থ্যসেবা কর্মপরিকল্পনায় হোমিওপ্যাথি খাতকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতকে আরও জনবান্ধব করতে সংগঠনটি কয়েক দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরকারি-বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হোমিও চিকিৎসা ইউনিট চালু করা। প্রস্তাবিত সংসদের উচ্চকক্ষে হোমিও চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত আসন রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষিত সমন্বিত স্বাস্থ্যনীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন, সরকারি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে সরকারি ডিপ্লোমা হোমিও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি অনুমোদিত হোমিও মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের শতভাগ বেতন-ভাতা এবং সার্বজনীন পেনশন সুবিধার আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়েছে—সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিএইচএমএস ও ডিএইচএমএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকদের মেডিকেল অফিসার ও সহকারী মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ এবং উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি হোমিও চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল আইন-২০২৩ অনুযায়ী নিরপেক্ষ ও যোগ্য চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কাউন্সিলের নির্বাহী পরিষদ গঠন এবং স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের এক-পঞ্চমাংশ হোমিও চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের প্রস্তাবনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক হোমিও উইং গঠন এবং পর্যায়ক্রমে ভারতের আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের আদলে আলাদা হোমিওপ্যাথি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী হোমিও আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি প্রিন্সিপাল (এক্স) ডা. মুন্সী মোজাম্মেল হক বলেন, দেশে লক্ষাধিক হোমিও ডিগ্রি ও ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রোগীদের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি অনুমোদিত হোমিও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডিপ্লোমা কলেজ, প্রকল্পভিত্তিক মেডিকেল অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট লক্ষাধিক চিকিৎসক ও তাদের পরিবার দেশের নাগরিক এবং ভোটার। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে বহুমাত্রিক চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়ে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |