কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পৌর এলাকার যুগিয়া ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বালিঘাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় পুরো এলাকা চরম উত্তেজনায় রয়েছে। ঘটনার পর নিরীহ সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়েরের অভিযোগ তুলে শনিবার (দুপুর ১২টা) যুগিয়া বাজার এলাকায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েক হাজার মানুষ অভিযোগ করেন, বালিঘাটকেন্দ্রিক একটি সহিংস ঘটনার দায় চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। অবিলম্বে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ সময় সড়ক অবরোধের ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
“আমি কোনো ঝামেলায় জড়িত ছিলাম না” মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হোটেল কর্মচারী কালাম বলেন, ঘটনার রাতে আনুমানিক রাত ২টা থেকে আড়াইটার দিকে তিনি ওয়াশরুমে গেলে হঠাৎ বালিঘাট এলাকা থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়।
তিনি বলেন, “আমি কোনো ঝামেলায় জড়িত ছিলাম না। হঠাৎ গুলি শুরু হলে দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়ি। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। আমার শরীরে এখনো একাধিক গুলি রয়েছে। কয়েকটি গুলি বের করা সম্ভব হয়েছে।”
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বশির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গোপীনাথপুর মৌজার নামে ইজারা নিয়ে অবৈধভাবে যুগিয়া বালিমহল ও শালদাও মৌজা থেকে প্রতিদিন বালি উত্তোলন করছে। এতে সরকারি বিধি-বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, “যে মৌজার ইজারা নেওয়া হয়েছে, সেখান থেকেই বালি তুলতে হবে। একাধিক মৌজা থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
স্থানীয় নারী খাদিজা বলেন, “আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। অথচ তাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা প্রকৃত দোষীদের শাস্তি চাই।”
আরেক নারী সিমা খাতুন বলেন, “এই রাস্তাই আমাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ। বর্ষায় কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলায় আমাদের সন্তানরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। অবৈধ ড্রাম ট্রাক চলাচল বন্ধ এবং দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
মামলা প্রত্যাহার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিরীহ মানুষের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানাই। মামলা প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এই সড়ক দিয়ে সব ধরনের বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
ইজারাদারের পাল্টা অভিযোগ অন্যদিকে, যুগিয়া বালুঘাটের ইজারাদার বশির আলী কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল তার অফিসে হামলা চালায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলায় তার ম্যানেজারসহ একাধিক কর্মচারী গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া হামলাকারীরা চাঁদা দাবি, নগদ অর্থ লুট, মোবাইল ফোন ছিনতাই এবং বালু উত্তোলনকারী যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বশির আলীর সঙ্গে এক সাংবাদিকের ফোনালাপ হয়। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) নিজে আহতদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন।
বশির আলী বলেন, “আমি ৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা দিয়ে বালিঘাটের ইজারা নিয়েছি। সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করেই ব্যবসা পরিচালনা করছি। কিন্তু দুর্বৃত্তদের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা না পেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”
মানববন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কী কারণে তার বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে—তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করেছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বালিঘাটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় পুরো যুগিয়া এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |