কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার শীতকালীন প্রকৃতি এখন রঙে-গন্ধে এক অনুপম সৌন্দর্যের পসরা মেলে ধরেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা সরিষা ফুলের সোনালি সমারোহ যেন হলুদ কারুকাজে আঁকা প্রকৃতির এক জীবন্ত চিত্রপট। শীতের মিষ্টি রোদ আর কোমল হাওয়ায় দুলতে থাকা এসব ফুল দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
প্রকৃতির সৌন্দর্যের এই মুগ্ধতা কৃষকের হৃদয়েও ছড়িয়ে দিয়েছে নতুন আশার আলো। সরিষার হলুদ চাদরে ঢাকা মাঠ ঘুরে কৃষকরা জানালেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বাজারে সরিষার ভালো দাম মিলতে শুরু করায় এ বছর চাষাবাদে উৎসাহ বেড়েছে। ক্ষেতজুড়ে মৌমাছির গুঞ্জন আর মধুচাষীদের ব্যস্ততাও সরিষা আবাদের প্রতি বাড়তি আগ্রহ জাগিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য জানায়, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। তবে আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১,৯৬০ হেক্টর, খোকসায় ১৫৭ হেক্টর, কুমারখালীতে ৮২০ হেক্টর, মিরপুরে ৫৫০ হেক্টর, ভেড়ামারায় ২৫০ হেক্টর এবং দৌলতপুরে চাষ হয়েছে ১,৭৯৩ হেক্টর।
কৃষি বিভাগ জানায়, স্থানীয় জাতের সরিষায় যেখানে হেক্টরপ্রতি ফলন ০.৫ থেকে ০.৬ টন, সেখানে বিনা ও বারির উন্নত জাত বেছে নিলে ফলন দাঁড়ায় দেড় থেকে দুই টন পর্যন্ত। ফলে কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের দিকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং এ বছর এর চাষও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
কুমারখালীর বাঁশ গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, “গত বছর ভালো চাষ হয়েছিল। তবে এ বছর আমনের শেষের বৃষ্টিতে একটু দেরি হওয়ায় জমি কম পেয়েছি।”অন্যদিকে খোকসার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি দেড় একর জমিতে বারি সরিষা-১৪ চাষ করেছেন। “আবহাওয়া এভাবেই ভালো থাকলে আশা করছি এবার বাম্পার ফলন হবে,”—বললেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “মৌসুমের শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সহযোগিতা দিয়েছি। এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।”
এদিকে সরিষা ফুলে সেজে ওঠা কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন সৌন্দর্যপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে দর্শনার্থীদের ভিড়, চোখের সামনে দিগন্তজোড়া হলুদ সমারোহ বন্দি হচ্ছে মোবাইল ক্যামেরায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে এসব মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
শীতের প্রকৃতিতে কুষ্টিয়ার সরিষাখেত শুধু কৃষি সম্ভাবনার দ্যুতিই ছড়াচ্ছে না, বরং মানুষের হৃদয়ে আনন্দেরও বর্ণিল রং ছড়িয়ে দিচ্ছে। সরিষা ফুলে সেজে ওঠা এ সোনালি প্রান্তর নিঃসন্দেহে শীতের এক বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে সবার মনে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |