কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
বাংলার চিরায়ত গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে জীবন্ত করে তুলতে কুষ্টিয়ার মেরিট মডেল স্কুলে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল পিঠাপুলি উৎসব। শীতের সকালের নরম রোদ, ভাপ ওঠা পিঠার মিষ্টি ঘ্রাণ আর হাসি–আনন্দে মুখর কোলাহলে স্কুল ক্যাম্পাস যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো গ্রামীণ বাংলায়।
কুষ্টিয়া শহরের কেন্দ্রস্থল কাজী নজরুল ইসলাম রোডের কোটপাড়া এলাকায় অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরিট মডেল স্কুল—যা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মান, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চায় অভিভাবকদের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত ও সৃজনশীল শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশে নানামুখী ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পিঠাপুলি উৎসব।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণ সাজানো হয় বাহারি আলোকসজ্জা, গ্রামীণ নকশা ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণে। উৎসবের স্টলগুলোতে শোভা পায় ভাপা পিঠা, চিতই, পুলি, দুধ চিতই, পাটিসাপটা, মালপোয়া, তেলের পিঠাসহ নানা স্বাদের দেশি পিঠা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান সামাদ, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)। উদ্বোধনী বক্তব্যে বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তির জগতে অনেকটাই ব্যস্ত। অথচ আমাদের শিকড় গ্রামে, আমাদের শক্তি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে। পিঠাপুলি উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”
বিদ্যালয়ের পরিচালক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের কেবল আনন্দই দেয় না, বরং তাদের শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করে।”
উৎসবের আরেকটি আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গ্রামীণ পোশাক, লোকসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে উৎসবে যোগ হয় বাড়তি রঙ ও আবেগ। অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, এমন আয়োজন শিশুদের সামাজিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দু’দিনব্যাপী এই পিঠাপুলি উৎসব কেবল খাবারের আয়োজনে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল বাংলার গ্রামীণ জীবনের স্মৃতিমাখা এক আনন্দময় মিলনমেলা—যেখানে সবাই মিলেমিশে ভাগ করে নিয়েছে হাসি, স্মৃতি আর ঐতিহ্যের উষ্ণতা।
মেরিট মডেল স্কুলের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে শিক্ষাঙ্গন পরিণত হয়েছিল ঐতিহ্য ও আনন্দের এক অনন্য মিলনস্থলে—যার মিষ্টি রেশ দীর্ঘদিন দর্শনার্থীদের মনে গেঁথে থাকবে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |