| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়া মনোনয়ন পেয়েও স্বস্তি নেই, ‘টেনশনে’ বিএনপির ৩ প্রার্থী

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 18-11-2025 ইং
  • 69631 বার পঠিত
কুষ্টিয়া মনোনয়ন পেয়েও স্বস্তি নেই, ‘টেনশনে’ বিএনপির ৩ প্রার্থী
ছবির ক্যাপশন: কুষ্টিয়া মনোনয়ন পেয়েও স্বস্তি নেই, ‘টেনশনে’ বিএনপির ৩ প্রার্থী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ঘোষিত ২৩৭টি আসনের প্রার্থী তালিকায় স্থান পেয়েছে কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসন। তবে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই কুষ্টিয়ার তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশসহ টানা আন্দোলনে নেমেছেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কর্মী-সমর্থকরা। এতে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীরা চরম অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ঘোষণা হওয়া চারটি আসনের মধ্যে কেবল কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন ছাড়া বাকি তিনটিতেই প্রার্থী বদলের দাবিতে প্রতিদিনই চলছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচিতে অস্থির হয়ে উঠেছে দৌলতপুর, মিরপুর-ভেড়ামারা ও কুমারখালী-খোকসা এলাকা।

 দৌলতপুর আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত আহসানুল হক পচা মোল্লার ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লাকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন যুবদল নেতা শরিফ উদ্দিন জুয়েলের অনুসারীরা। তারা দাবি করছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে জুয়েলের বিরুদ্ধে ৩১৭টি মামলা হয়েছে। দৌলতপুরকে সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে জুয়েলই উপযুক্ত প্রার্থী বলে মনে করেন তার সমর্থকরা। প্রতিদিনই গণসংযোগ, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা বাচ্চুর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।

মিরপুর-ভেড়ামারা আসনে তরুণ ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরীকে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তার বাবা প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরীও এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে এই মনোনয়ন মেনে নিতে পারছেন না তিনবারের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের অনুসারীরা। তাদের অভিযোগ— ব্যারিস্টার রাগীব দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকেন, মাঠের আন্দোলনে তেমন দেখা যায়নি। এ ধরনের ‘বসন্তের কোকিল’কে প্রার্থী করলে আসনটি জামায়াতের কাছে চলে যাবে। এ দাবিতে প্রতিদিনই আন্দোলন-সমাবেশ করে যাচ্ছেন শহীদুলের সমর্থকরা।

কুমারখালী-খোকসা আসনে সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীকে মনোনয়ন দিলে অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিকের সমর্থকরা প্রতিদিনই বিক্ষোভ-মিছিল, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করছেন।

সমর্থকদের অভিযোগ, দলীয় দুঃসময়ে রুমী এলাকায় ছিলেন না। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর তিনি ঢাকায় সময় কাটিয়েছেন। তৃণমূলে তার যোগাযোগ নেই—তাকে দিয়ে এই আসন জেতা অসম্ভব। এ আসনে আরও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য হাফেজ মঈনউদ্দীন। দলীয় কঠোরতা সত্ত্বেও থামছে না বিক্ষোভ। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মীদের আন্দোলন থামাতে বিএনপির হাইকমান্ড কঠোর অবস্থান নিলেও তাতে তেমন কাজ হয়নি। কুমারখালী উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক জাকারিয়া আনসার মিলনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিলেও আন্দোলন থামেনি।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, “যারা আমার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে তারা জ্বলে-পুড়ে মরবে। কে কী বিক্ষোভ করলো—আমি পাত্তা দিই না। তবে নির্বাচনের সময় সবাই একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা রাখি।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা দাবি করছেন তারাও দলের ত্যাগী নেতা। বিএনপি বড় দল—ক্ষোভ-অভিমান থাকতেই পারে। আমরা সবার সঙ্গে কথা বলছি। দিন শেষে সবাই এক হয়ে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য কাজ করবেন বলে আশা করি।

মনোনয়নকে ঘিরে কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। তিনটি আসনে টানা বিক্ষোভে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত অনেক আগেই একক প্রার্থী ঠিক করে মাঠে থাকায় তারা তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে।

মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নির্বাচনি মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে—সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার মূল বিষয়।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম