কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
চলতি আমন মৌসুমের শুরুতে বাম্পার ফলনের আশা জাগালেও শেষ মুহূর্তে কারেন্ট পোকা ও জাব পোকার আক্রমণে ধানক্ষেতে নেমে এসেছে হতাশা। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে—ধান পাকার আগ মুহূর্তে পোকামাকড়ের আক্রমণে শীষের দানা ফাঁপা হয়ে যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে যাচ্ছে অস্বাভাবিক হারে, লোকসান ঘনিয়ে এসেছে কৃষকদের সামনে।
কৃষকরা জানাচ্ছেন, যে জমিতে সাধারণত ২০ মনের বেশি ধান উৎপাদন হতো, সেখানে এবার হচ্ছে মাত্র ৮–১০ মন। এতে উৎপাদন ব্যয় ও বাজার পরিস্থিতি মিলিয়ে ক্ষতির বোঝা আরও বেড়েছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “ধানের গোড়া পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু শীষ আসতেই কারেন্ট পোকার এমন আক্রমণ হলো—সব স্বপ্ন শেষ। জমির ধান কেটে ঘরে তোলার মতো কিছুই রইল না।”
একই চিত্র দৌলতপুর, ভেড়ামারা, কুমারখালী ও খোকসাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। কৃষকদের অভিযোগ—সার, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় চাষাবাদ ব্যয় আগেই বেড়েছে; তার ওপর পোকার আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান।
কৃষক জিহাদুল ইসলাম জানান, “এ বছরে ফলন ভালো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কারেন্ট ও জাব পোকার আক্রমণে চোখের সামনে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছু করার নেই—মাথায় হাত পড়ে গেছে।”
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর পোকার আক্রমণ বেড়েছে। অনেক কৃষক সঠিক সময়ে কীটনাশক প্রয়োগ না করায় ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়ছে।
কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং কৃষকদের সঠিক কীটনাশক ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারিভাবে ভর্তুকি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন।
তবে কৃষকদের দাবি—মাঠের বাস্তবতা অনুযায়ী জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও কীটনাশক সরবরাহ না করলে আগামী মৌসুমে ধান চাষে অনাগ্রহী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধানে কারেন্ট পোকার ব্যাপক আক্রমণ শুধু কৃষকদেরই নয়—দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |