কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী লোকমান শেখের মেয়ে মোছাম্মৎ রোকসানা খাতুন (২১) দীর্ঘদিন ধরে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছেন। চিকিৎসার আশায় একের পর এক হাসপাতালে ছুটেছেন রোকসানার পরিবার, কিন্তু মেলেনি সুস্থতার আশার আলো। রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, রোকসানা খাতুন শয্যাশায়ী অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। পাশে তার অসহায় পরিবার, যারা চোখের জলে দিন পার করছেন। চিকিৎসার জন্য যা কিছু ছিল, সব বিক্রি করেছেন তারা। এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রোকসানা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রোকসানার শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। প্রথমে কুষ্টিয়া, পরে রাজশাহী ও ঢাকায় চিকিৎসা করানো হয়। উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে ভারতে নেওয়া হয়। ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, রোকসানার হিপ জয়েন্ট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, বাঁচার একমাত্র উপায় কৃত্রিম হিপ জয়েন্ট প্রতিস্থাপন। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ১১ লক্ষ টাকা।
কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পিতা লোকমান শেখের পরিবারের পক্ষে এত বিপুল ব্যয় বহন করা অসম্ভব। চিকিৎসায় যা কিছু ছিল, সব হারিয়েছেন তারা। বর্তমানে তাদের একমাত্র সম্পদ ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই।
অসহায় এই পরিবারের পক্ষ থেকে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে। রোকসানার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটু সহায়তা পেলে হয়তো আমাদের মেয়ের জীবনটা বাঁচানো যাবে। আবার ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবন। চিকিৎসায় সহায়তা করতে ইচ্ছুক যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন রোকসানার পরিবারের এই মোবাইল নম্বরে — ০১৯৯৯-৮২৮১১৮।
ধোপড়াখোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখছি। তার বাবা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। যদি সমাজের সবাই মিলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে রোকসানা আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেশী আব্দুল বারিক শেখ জানান, মেয়েটির পরিবার সর্বস্ব বিক্রি করে চিকিৎসার চেষ্টা করেছে। এখন বিদেশে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলো রোকসানার চিকিৎসায় এগিয়ে আসবেন। কারণ এটি শুধু একটি জীবনের নয়, একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রাম।
রোকসানা খাতুন নিজেও চোখের জলে বলেন, আমি খুব অসুস্থ। ডাক্তাররা বলেছেন অস্ত্রোপচার না করালে হয়তো আর বাঁচব না। তাই সকলের কাছে অনুরোধ করছি—আমার জীবন বাঁচাতে আপনারা সাহায্য করুন।
মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় রোকসানার পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সমাজের দয়ালু ও মানবপ্রেমী মানুষদের সহযোগিতায় হয়তো নতুন করে আলো দেখতে পারে রোকসানার জীবন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |