কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় শনিবার (৪ অক্টোবর ২০২৫) সকালে সংঘটিত হয়েছে এক নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জাকারিয়া পিন্টু, তার ভাই মেহেদী ও আবু সাঈদ খানের নেতৃত্বে গঠিত একটি সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে নৌ পুলিশের সামনেই নিরীহ মাঝিদের উপর হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে “ভাসমান খাজনা” আদায়ের নামে ৮-১০ জন মাঝিকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।আহত এক মাঝি সাংবাদিকদের জানান, আমি নৌকা ঘুরাচ্ছিলাম, হঠাৎ মেহেদী পিন্টুর সন্ত্রাসীরা এসে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। পিটিয়ে আমার একটি পা ও একটি হাত ভেঙে ফেলে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। অন্য এক মাঝির ভাষায়, বেলা ১২টার দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন বরফ কল এলাকায় আমি নৌকা ভেড়াচ্ছিলাম। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পিন্টু-মেহেদীর লোকজন এসে ‘ভাসানের টাকা দে’ বলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে আমার হাত ভেঙে যায়। এ বিষয়ে দৌলদিয়া-টু-রাজশাহী নৌচ্যানেলের বৈধ ইজারাদার গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড-এর সহকারী পরিচালক সোহেল খন্দকার বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ সাঈদ খানের নেতৃত্বে পিন্টু-মেহেদী বাহিনী নিরীহ মাঝিদের উপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। তারা অবৈধভাবে চাঁদা তুলছে। তিনি আরও জানান, আহত মাঝিদের দেখতে তিনি ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান এবং এই ঘটনাকে “মানবতার পরিপন্থী ও প্রশাসনের ব্যর্থতা” বলে আখ্যায়িত করেন। তার ভাষায়, চাঁদা তিন ভাগে ভাগ হচ্ছে — এক ভাগ সাঈদ খানের কাছে, এক ভাগ মেহেদী-পিন্টুর কাছে, আরেক ভাগ নৌ পুলিশের কাছে যাচ্ছে বলে মাঝিরা জানিয়েছেন। সোহেল খন্দকার অভিযোগ করেন, তিনি একাধিকবার নৌ পুলিশ অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাননি। অন্যদিকে নৌ পুলিশ অফিসার ইনচার্জ সাংবাদিকদের বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ যদি অভিযোগ করে, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহত মাঝিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৈধ ইজারাদার প্রতিষ্ঠান গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড জানিয়েছে,যত ধরনের আইনি প্রক্রিয়া আছে, তার সবগুলোই গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চললেও নৌ পুলিশের নীরবতা এখন বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নিরীহ মাঝিদের ন্যায়বিচার এখন সময়ের দাবি।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |