নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া:
লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী, ‘লালনকন্যা’ খ্যাত ফরিদা পারভীন রবিবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর) বাদ মাগরিব কুষ্টিয়ার পৌর গোরস্তানে বাবা–মায়ের কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। দুপুর থেকে গোরস্তানে কবর খোঁড়ার কাজ চলছিল। গোরস্তানের খাদেম নূর ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফরিদা পারভীন (৭১)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও চার সন্তান রেখে গেছেন। ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন গানে গানে ৫৫ বছরের জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর গানের হাতেখড়ি মাগুরায়, ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে। নজরুলসংগীতে তালিম নেওয়ার পর ১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন। স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় এসে লালনগীতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ঘটে। মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে প্রথম লালনগীতি শেখার পর খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছ থেকেও তিনি তালিম নেন। লালন সাঁইজির বাণী ও সুরকে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় করে তোলায় ফরিদা পারভীনের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। বাংলাদেশ ছাড়াও জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে তিনি লালনগীতি পরিবেশন করেছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার অর্জন করেন। কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানের খাদেম নূর ইসলাম জানান, ফরিদা পারভীনের বাবা দেলোয়ার হোসেন ১৯৯৬ সালে মৃত্যুবরণ করলে তাঁকে ওই কবরেই দাফন করা হয়। পরে তাঁর মা রৌফা বেগমও একই কবরেই শায়িত হন। আজ তাঁদের পাশেই ফরিদা পারভীনকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গন আজ হারালো এক কিংবদন্তিকে, যাঁর কণ্ঠে লালনগীতি চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের হৃদয়ে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |