কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’—মানবতাবাদী এই অমর বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে লাখো ভক্ত-অনুরাগীর সমাগমে শেষ হলো মরমি সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস-২০২৬-এর আয়োজন। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়ি ও লালন একাডেমি চত্বর পরিণত হয় সাধক-ভক্ত, বাউলশিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলায়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উৎসবের শেষ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসান।
লালন তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে লালন একাডেমি চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বাউলশিল্পী, সাহিত্যিক এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর সমাগম ঘটে। মরমি সাধকের গান, দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তাকে কেন্দ্র করে উৎসবের শেষ দিনেও ছেঁউড়িয়ায় বিরাজ করে এক আবেগঘন পরিবেশ।
ফকির লালন সাঁইয়ের দর্শনের মূল সুর ছিল মানুষকে ভালোবাসা, মানবতার জয়গান এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্যকে উপলব্ধি করা। তাঁর গান ও দর্শন আজও মানুষকে আত্মঅনুসন্ধান, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যের পথে আহ্বান জানায়। তাই লালনের তিরোধান দিবস কেবল একজন সাধকের স্মরণানুষ্ঠান নয়; এটি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ারও এক অনন্য উপলক্ষ।
প্রতি বছর লালনের স্মৃতিবিজড়িত ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে এই আয়োজন দেশি-বিদেশি ভক্ত-অনুরাগীদের আকৃষ্ট করে। লালনের গান ও দর্শনের চর্চা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁর মানবতাবাদী চিন্তার তাৎপর্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৩৬তম তিরোধান দিবসের শেষ দিনের আলোচনা সভা ও উৎসবের আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবারও উচ্চারিত হলো লালন সাঁইয়ের সেই চিরন্তন আহ্বান—মানুষের মাঝেই মানুষকে খুঁজে নেওয়া, ভেদাভেদ ভুলে মানবতার পথে এগিয়ে চলা। ছেঁউড়িয়ার মাটি থেকে ছড়িয়ে পড়া এই মরমি দর্শন যেন স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের চেয়ে বড় পরিচয় আর কিছু নেই।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |