কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস ও লালন মেলাকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় মাদক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গড়াই নদীর তীর এবং লালন ও রবীন্দ্র উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে গাঁজার আড্ডা। ‘সবজি’ সাংকেতিক নামে গাঁজা বিক্রির পাশাপাশি ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বেচাকেনার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। এ পরিস্থিতিতে মেলাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, লালন মেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে অবস্থান নিয়ে মাদক বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেলায় আগত দর্শনার্থী, সাধু-গুরু, বাউল অনুসারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এ কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা বলা হলেও মাদক বিক্রি বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর তৎপরতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো কোনো অসাধু কর্মকর্তা এবং নৈতিকতাবিবর্জিত পরিচয়ধারী কিছু কথিত সাংবাদিকের যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীরা টাকা দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে বলেই আমাদের ধারণা। এ কারণে মাদক বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। আমরা চাই, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।”
স্থানীয়দের মতে, লালন মেলা কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি বাংলার বাউল দর্শন, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা। এমন একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের আশপাশে মাদকের আড্ডা ও বেচাকেনার অভিযোগ মেলার পরিবেশ ও ভাবমূর্তির জন্য উদ্বেগজনক।
তাঁদের দাবি, গড়াই নদীর তীর, লালন আখড়াবাড়ি ও রবীন্দ্র উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। সাদা পোশাকে মাদকবিরোধী অভিযান, সন্দেহভাজন বিক্রয়স্থলে তল্লাশি এবং মেলায় প্রবেশপথে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে মাদক বিক্রির অভিযোগে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাঁর পরিচয় কিংবা পদমর্যাদা বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, লালন সাঁইয়ের মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মাদকবিরোধী অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |