কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস সামনে রেখে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় উৎসবের আবহের পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা প্রস্তুতি। লালনভক্ত, সাধু-গুরু ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হওয়ার আগেই মেলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ।
আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী তিরোধান দিবসের আয়োজন হওয়ার কথা রয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক লালনভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগমকে সামনে রেখে উৎসবস্থলকে মাদক, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলামুক্ত রাখতে আগাম তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরই অংশ হিসেবে গত ৪ অক্টোবর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় কুষ্টিয়া সদর ও কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জদের নেতৃত্বে মেলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও ব্যাগপত্র তল্লাশি করা হয় এবং মাদকদ্রব্যের সম্ভাব্য উৎস ও বহনকারীদের ওপর নজরদারি করা হয়।
পুলিশের এই অভিযান শুধু আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের অংশ নয়—লালনের আখড়াবাড়িকে ঘিরে গড়ে ওঠা শত বছরের ঐতিহ্য ও বাউল সংস্কৃতির পবিত্র আবহ অক্ষুণ্ন রাখারও একটি প্রয়াস। বিশেষ করে মেলা প্রাঙ্গণে গাঁজা বা অন্য কোনো মাদকদ্রব্যের সেবন, কেনাবেচা ও বহন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ।
লালনের দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীনতার বাণী। সেই দর্শনের স্মরণোৎসবের পরিবেশ যেন কোনোভাবেই মাদক ও অপরাধের ছায়ায় কলুষিত না হয়, সেটিই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিরোধান দিবসকে ঘিরে ছেঁউড়িয়ায় জনসমাগম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হবে। মেলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের নিয়মিত নজরদারি, তল্লাশি ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসন ও পুলিশের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি লালনভক্ত, দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের সচেতন সহযোগিতা মিললে এবারের আয়োজন হবে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ। আর সেই পরিবেশেই লালনের মানবতার দর্শন, বাউল সংস্কৃতির মর্মবাণী ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়বে আরও দূরে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |