কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলার ২৫৬টি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে অতিরিক্ত নজরদারি এবং বিসর্জনস্থলে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা চেয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা শাখা।
এ উপলক্ষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ১২ দফা প্রস্তাব ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত সুপারিশমালায় দুর্গোৎসবের শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়।
সুপারিশে বলা হয়েছে, জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিমা নির্মাণের সময় থেকেই মণ্ডপগুলোতে পর্যায়ক্রমে পুলিশি টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে সিসিটিভি স্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপ ও দর্শনার্থীদের সমাগমস্থলে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি ইভটিজিং প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। জনবহুল মণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিসর্জনের শোভাযাত্রার জন্য নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ রয়েছে।
বিসর্জনকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গড়াই নদীসহ জেলার বিভিন্ন বিসর্জনঘাটের নিরাপত্তায়। এসব স্থানে পর্যাপ্ত পুলিশ, নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রয়োজনীয় উদ্ধারকর্মী মোতায়েন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।
এ ছাড়া মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় মাদকসেবন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বখাটেপনা ও অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান ও টহল জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য, ধর্মীয় উসকানি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রকৃত তথ্য জনসাধারণের কাছে তুলে ধরার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সুপারিশমালায় প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের সমন্বয় সভা আয়োজন এবং জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর সরবরাহের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের বৈদ্যুতিক সংযোগ, জেনারেটর, আলোকসজ্জা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ আরও পাঁচটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পূজার দিনগুলোতে প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কার্যকর সমন্বয় ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখা, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানো ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের পূজা পরিষদ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা। একই সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে থানা, ট্রাফিক বিভাগ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব কুমার বিশ্বাস বলেন, পুলিশ প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের পারস্পরিক সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার ২৫৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন সম্ভব। এ জন্য পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পূজা পরিষদের পক্ষ থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |