| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহের, বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য নিয়ে সেমিনার

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 27-09-2026 ইং
  • 422 বার পঠিত
কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহের, বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য নিয়ে সেমিনার
ছবির ক্যাপশন: লালনের দর্শন, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে কবি-ভাবুক ফরহাদ মজহারসহ লেখক-গবেষকদের আলোচনা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ভাবদর্শন, মানবতাবাদী চেতনা এবং বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতিতে তাঁর অসামান্য অবদান নিয়ে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফকির লালন শাহ : বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য’ শীর্ষক সেমিনার। সেমিনারে লালনের দর্শনকে কেবল গান কিংবা লোকজ সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে নয়, বাঙালির আত্মপরিচয়, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন বক্তারা।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন কবি, ভাবুক ও নবপ্রাণ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ফরহাদ মজহার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান, পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লেখক, গবেষক, সংস্কৃতিসেবী ও গুণীজনেরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল খন্দকার।

লালনের গান ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, লালন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মানুষকে পরিচয়ের সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে মানবিকতার বৃহত্তর পরিসরে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর গানে যেমন আত্মজিজ্ঞাসা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমাজের বিভাজন, জাতপাত ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে গভীর মানবিক উচ্চারণ। বাংলার মাটি ও মানুষের জীবন থেকে উঠে আসা সেই দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

বক্তারা আরও বলেন, লালনের ভাষা ছিল সহজ, অথচ তার অন্তর্নিহিত ভাব ছিল গভীর ও বহুমাত্রিক। তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা পেয়েছে এক স্বতন্ত্র ভাবপ্রকাশের শক্তি। গ্রামবাংলার সহজ-সরল শব্দ, উপমা ও জীবনবোধকে তিনি এমন শিল্পিত উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা বাংলা সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে অনন্য হয়ে আছে।

সেমিনারে লেখক ও গবেষকেরা লালনের জীবন, দর্শন, সংগীত এবং সমাজভাবনা নিয়ে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেন। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে—লালনকে বুঝতে হলে শুধু তাঁর গান শুনলেই হবে না; তাঁর সময়, সমাজ, মানুষের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রচলিত বিভাজনের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানকেও গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে।

কুষ্টিয়ার মাটিতে লালনচর্চার এমন আয়োজনকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, লালনের দর্শন নিয়ে মুক্ত ও মননশীল আলোচনা যত বিস্তৃত হবে, ততই নতুন প্রজন্ম তাঁর সৃষ্টির অন্তর্নিহিত মানবিক বার্তা ও বাংলার ভাবজগতের গভীরতা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম