কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
“ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬। পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নানা স্লোগান ও ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে কুষ্টিয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস, লোকজ সংস্কৃতি ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার প্রত্যয় ফুটে ওঠে। লালন শাহের আখড়া, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি, শিলাইদহের ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ জেলার নানা ঐতিহ্যবাহী স্থানকে পর্যটন মানচিত্রে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া শুধু একটি জেলা নয়—এটি বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি, দর্শন ও লোকঐতিহ্যের এক অনন্য ভাণ্ডার। পরিকল্পিত উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে এ জেলার পর্যটন সম্ভাবনা আরও বিকশিত হতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রের তথ্য, ভার্চুয়াল ভ্রমণ, ডিজিটাল প্রচার, অনলাইন বুকিং এবং পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সেবা সহজলভ্য করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আলোচনা সভায় কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা, যাতায়াত সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের এবারের আয়োজন যেন কুষ্টিয়ার জন্য একটি নতুন বার্তা—ঐতিহ্যের শিকড় ধরে রেখে প্রযুক্তির ডানায় ভর করে পর্যটনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়। ইতিহাস ও সংস্কৃতির এই জনপদকে আধুনিক পর্যটনের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগই পারে কুষ্টিয়ার সম্ভাবনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |