কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম
বর্ষার জল আর উর্বর মাটিকে কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মাঠজুড়ে এখন আমনের সবুজ সমারোহ। কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় ধানের চারাগুলো বেড়ে উঠছে। এরই মধ্যে চলতি মৌসুমে আমন ধানের আবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকের বাড়তি আগ্রহ ও অনুকূল কৃষি পরিবেশের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ২০ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে কৃষক পর্যায়ে আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ১০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, আমন তাঁদের কাছে শুধু একটি মৌসুমি ফসল নয়; এটি পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বর্ষার মৌসুমে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকায় অনেক জমি আমন চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। ফলে কৃষকেরা ধান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হওয়াকে কুষ্টিয়ার কৃষির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ১৯৫ হেক্টর। সেখানে বাস্তবে ২০ হাজার ২০৫ হেক্টরে আবাদ হওয়ায় কৃষকের মাঠপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও আমন চাষের প্রতি তাঁদের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
কৃষিবিদ রুপালি খাতুনের মতে, আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক জাতের ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো সেচ ও রোগবালাই দমন এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে ফলনও বাড়তে পারে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে শুধু আবাদ বাড়লেই কৃষকের মুখে হাসি স্থায়ী হবে না—ধানের উৎপাদন খরচ ও বাজারদরও গুরুত্বপূর্ণ। বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও জমি প্রস্তুতের ব্যয় বাড়লে ভালো ফলন পেয়েও কৃষকের কাঙ্ক্ষিত লাভ নাও হতে পারে।
কৃষকেরা তাই একদিকে যেমন ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন, অন্যদিকে ধান কাটার মৌসুমে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তাও চান। তাঁদের মতে, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারদর নিশ্চিত হলে আমন আবাদ কৃষকের জন্য আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।
মৌসুমের এই সময়ে কৃষকের ব্যস্ততা এখন মূলত জমির পরিচর্যাকে ঘিরে। আগাছা দমন, সার প্রয়োগ, পোকামাকড় ও রোগবালাই পর্যবেক্ষণসহ নানা কাজে সময় দিচ্ছেন তাঁরা। মাঠে মাঠে ধানের চারার সবুজ আভা জানান দিচ্ছে সম্ভাব্য নতুন ফসলের।
কৃষকের প্রত্যাশা, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেবে না। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে আমনের ফলন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কৃষির সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সম্ভাবনাকে টেকসই করতে হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত কৃষকের পাশে থাকা জরুরি।
বিশেষ করে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, মানসম্মত বীজ ও সার সহজলভ্য করা, রোগবালাই দমনে দ্রুত পরামর্শ দেওয়া এবং ফসল ঘরে ওঠার পর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আমন চাষে কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে।
কুষ্টিয়া সদরের মাঠে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আমন আবাদ সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন কৃষকের প্রত্যাশা—সবুজ ধানের এই সমারোহ যেন শেষ পর্যন্ত গোলাভরা ধান আর ন্যায্য আয়ের সুখবর হয়ে ফিরে আসে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |