| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

খোকসায় হেলিকপ্টারে ‘আদম ব্যবসায়ী’, ফুল হাতে পুলিশ!

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 07-09-2026 ইং
  • 582 বার পঠিত
খোকসায় হেলিকপ্টারে ‘আদম ব্যবসায়ী’, ফুল হাতে পুলিশ!
ছবির ক্যাপশন: প্রবাসী নাসিরকে ওসির শুভেচ্ছা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, উঠছে নানা প্রশ্ন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | মো. মুনজুরুল ইসলাম

হেলিকপ্টারের শব্দে রবিবার দুপুরে সরগরম হয়ে ওঠে কুষ্টিয়ার খোকসা। আকাশপথে ঢাকা থেকে সরাসরি জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নামেন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী নাসির উদ্দিন শেখ। হেলিকপ্টার দেখতে মাঠে ভিড় করেন শত শত মানুষ। কিন্তু মুহূর্তেই বদলে যায় আলোচনার বিষয়—হেলিকপ্টার নয়, বরং তাকে ঘিরে থাকা পুলিশের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেলিকপ্টার থেকে নামার পর নাসির উদ্দিন শেখকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। সেখানে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন এবং পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেনকে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই প্রশ্ন উঠেছে—একজন ব্যক্তিকে ঘিরে পুলিশের এমন প্রকাশ্য সৌজন্য প্রদর্শনের কারণ কী?

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নাসির উদ্দিন শেখ খোকসা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর রুমীপাড়ার বাসিন্দা। তিনি খোকসা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং আসন্ন খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মো. রবিন রায়হান জসিমের ছোট ভাই। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন এবং জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

‘আদম ব্যবসায়ী’র বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাহলে পুলিশের ফুল কেন?

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, নাসির উদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চেক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা ও সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। কেউ কেউ তাকে ‘আদম ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলা, নথি বা আদালতের আদেশ স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

কিন্তু অভিযোগগুলোর সত্যতা যা-ই হোক, একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সামনে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর দৃশ্যই এখন জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি তিনি কেবল একজন প্রবাসী ও ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় ফেরেন, তাহলে পুলিশ কেন সেখানে উপস্থিত ছিল? আর যদি পুলিশের উপস্থিতির কারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে ফুলেল শুভেচ্ছার দৃশ্যটি কীভাবে তৈরি হলো?

ওসির দাবি—‘আমরা ফুল দেইনি’

অভিযোগের বিষয়ে খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেনের বক্তব্য ভিন্ন।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ব্যক্তিকে আমরা ফুল দিতে পারি না। দেইওনি। যাদের লোক, তারাই ফুল দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তার জন্য গিয়েছিলাম। তখন ওনারাই তদন্ত কর্মকর্তাকে ফুল দিয়েছে।’

অর্থাৎ ওসির দাবি, তিনি ফুল দিতে যাননি; বরং নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্য নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন এখানেই শেষ হচ্ছে না। পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে ফুল দেওয়ার সময় সেখানে থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা কেন এবং কীভাবে উপস্থিত ছিলেন—এ বিষয়টিও স্থানীয়দের আলোচনায় রয়েছে।

হেলিকপ্টার অবতরণ, মাঠে জনতার ঢল

সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর নিজ এলাকায় দ্রুত ও সরাসরি যেতে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন নাসির উদ্দিন শেখ। হেলিকপ্টারে তাঁর সঙ্গে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী দুই ব্যবসায়ী অংশীদারও ছিলেন বলে জানা গেছে।

হেলিকপ্টার আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই জানিপুর পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের আশপাশে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুরে হেলিকপ্টার অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে উৎসুক জনতার ঢল নামে। অনেকে মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনা ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিওরই একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনীতি, ব্যবসা ও পুলিশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন

নাসির উদ্দিন শেখের পরিচয়ের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিরও যোগসূত্র রয়েছে। তিনি খোকসা পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় এক মেয়রপ্রার্থীর ভাই। ফলে একজন প্রবাসী ব্যবসায়ীর হেলিকপ্টারে প্রত্যাবর্তন এবং তাকে ঘিরে পুলিশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি—ঘটনাটি স্বাভাবিক সৌজন্য নাকি রাজনৈতিক-সামাজিক প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, পুলিশের পোশাক ও পদমর্যাদা শুধু ব্যক্তিগত সৌজন্যের বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও জড়িত। তাই কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপস্থিতি ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।

এসপি বললেন, ‘আগে ভালো করে জেনে নিই’

ঘটনাটি নিয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আগে ভালো করে জেনে নিই। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’

এখন প্রশ্ন একটাই—খোকসার সেই মাঠে আসলে কী ঘটেছিল?

পুলিশ কি শুধু নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিল, নাকি পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ফুল দিয়ে নাসির উদ্দিন শেখকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্য এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা কী?

ঘটনার সত্যতা ও প্রেক্ষাপট পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, ভিডিওর পূর্ণাঙ্গ ফুটেজ এবং নাসির উদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে থাকা মামলার নথি যাচাই জরুরি। কারণ একজন ব্যক্তিকে ফুল দেওয়ার ঘটনাটি হয়তো নিছক সৌজন্য—আবার এর পেছনে অন্য কোনো সম্পর্ক বা প্রভাবের সমীকরণও থাকতে পারে। আর সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন খোকসার মানুষ।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম