কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম
কুষ্টিয়া-এর মাটিতে আবারও জীবন্ত হয়ে উঠল গ্রামবাংলার শতবর্ষী ঐতিহ্য। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়নপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হলো প্রাচীন লোকজ ক্রীড়া—লাঠি খেলা। এই আয়োজন যেন একদিনের জন্য ফিরিয়ে নিল গ্রামীণ জীবনের সেই চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা দিনগুলোতে।
সম্প্রতি হরিনারায়নপুর গ্রামের খোলা মাঠে আয়োজিত এই লাঠি খেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে থাকেন নানা বয়সী মানুষ। শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবাই মেতে ওঠেন এক অনন্য উচ্ছ্বাসে। মাঠজুড়ে ঢোল-করতালের তালে তালে শুরু হয় লাঠিয়ালদের দৃষ্টিনন্দন কৌশল প্রদর্শন, যা মুহূর্তেই দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত অভিজ্ঞ লাঠিয়ালরা তাদের নিপুণতা, ক্ষিপ্রতা ও সমন্বয়ের অনবদ্য প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন। প্রতিটি আঘাত ও প্রতিরোধের ছন্দময় ভঙ্গি যেন বলে দেয় বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা দক্ষতা ও সাধনার গল্প। দর্শকদের করতালি আর উল্লাসে পুরো মাঠ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
লাঠি খেলা একসময় ছিল গ্রামবাংলার আত্মরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কৌশল এবং বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে এমন আয়োজন প্রমাণ করে—এখনও মানুষের হৃদয়ে এই সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা রয়ে গেছে।
আয়োজকরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের ভিড়ে নতুন প্রজন্মকে গ্রামবাংলার শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত এমন আয়োজনের মাধ্যমে লোকজ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শনার্থীরা জানান, এই আয়োজন তাদের শৈশবের স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “লাঠি খেলা শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের পরিচয়।”
দিনব্যাপী এ আয়োজনের শেষপর্বে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
গ্রামীণ সংস্কৃতির এই বর্ণিল আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—সময় যতই বদলাক, শিকড়ের টান কখনো ম্লান হয় না; বরং সুযোগ পেলেই তা নতুন করে জেগে ওঠে মানুষের হৃদয়ে।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |