দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি | জনিরুল ইসলাম
দীর্ঘ ২১ বছরের ব্যবধান পেরিয়ে আবারও এক কাতারে দাঁড়ালেন বাগোয়ান কে.সি.ভি.এন. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০০৫ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সময়ের স্রোতে কেউ হয়েছেন কর্মজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ ছড়িয়ে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে—তবুও মনের গহিনে রয়ে গেছে স্কুলজীবনের সেই দুরন্ত দিনগুলোর অমলিন স্মৃতি। সেই স্মৃতিকে নতুন করে জীবন্ত করতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০০৫ ব্যাচের বন্ধু মিলনমেলা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ মিলনমেলায় দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধুরা একত্রিত হন। আনন্দ-উচ্ছ্বাস, স্মৃতিচারণ, র্যালি, খেলাধুলা, বিনোদন এবং প্রাণখোলা গল্প-আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
মিলনমেলার দিনটি ছিল যেন ফিরে দেখা সেই ফেলে আসা কৈশোরের দিনগুলোকে। একে অপরকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। দীর্ঘদিনের ব্যবধান ভুলে পুরোনো বন্ধুরা মেতে ওঠেন হাসি-আনন্দে। কেউ স্মরণ করেন শ্রেণিকক্ষের দুষ্টুমি, কেউবা স্কুল মাঠের খেলাধুলা কিংবা প্রিয় শিক্ষকদের কথা। স্মৃতির পাতায় জমে থাকা অসংখ্য গল্প নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় এ আয়োজনে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক আয়োজনের পাশাপাশি ছিল পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ। বন্ধুদের হাসি, কোলাহল আর আন্তরিকতায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে এক আনন্দমুখর মিলনক্ষেত্র।
মিলনমেলায় প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. হাসানুজ্জামান সবুজ। অনুষ্ঠানে প্রধান আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইঞ্জিনিয়ার সুমন আহমেদ। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
অনুষ্ঠানের সফল আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন অর্থ ও বাজেট সমন্বয়ক মো. শুকচাঁদ আলী, প্রধান সমন্বয়ক ও অনুষ্ঠান সঞ্চালক মো. রাইহান উদ্দিন, ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক মো. নিহাজ উদ্দিন, অভ্যর্থনা, সামগ্রী ও মঞ্চ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. জুয়েল হোসাইন, অতিথি ব্যবস্থাপনা ও ফটোগ্রাফি সম্পাদক মো. হামিদুল ইসলাম এবং নিরাপত্তা ও মনিটরিং সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিন পর ২০০৫ ব্যাচের বন্ধুদের একত্রিত করে স্কুলজীবনের পুরোনো স্মৃতিগুলোকে নতুন করে প্রাণবন্ত করা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করাই ছিল এ মিলনমেলার মূল উদ্দেশ্য।
তাদের ভাষায়, সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন ও কর্মক্ষেত্র বদলে গেলেও প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনো পুরোনো হয় না। বরং দীর্ঘ সময় পর একত্রিত হওয়ার এমন আয়োজন সেই বন্ধুত্বকে আরও গভীর ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
দিনের শেষভাগে আবেগ, ভালোবাসা আর অসংখ্য স্মৃতি বুকে নিয়ে বিদায় নেন অংশগ্রহণকারীরা। তবে বিদায়ের মধ্যেও ছিল আবারও একত্রিত হওয়ার প্রত্যয়। দীর্ঘ ২১ বছর পরের এই বন্ধু মিলনমেলা তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—অংশগ্রহণকারীদের কাছে এটি হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে ফিরে পাওয়ার এক অনন্য উপলক্ষ, যেখানে স্মৃতি, আবেগ, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বন্ধন মিলেমিশে তৈরি করে এক অবিস্মরণীয় দিন।
| ফজর | ৫.২১ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৩.৪৭ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৫.২৬ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৬.৪৪ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১২.৩০ মিনিট দুপুর |