| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

কুষ্টিয়ার জগতি জিকে ক্যানেলের সেতুতে নিরাপত্তার বালাই নেই দুই পাশে রেলিং উধাও

রিপোর্টারের নামঃ MD MUNZURUL ISLAM
  • আপডেট টাইম : 30-07-2026 ইং
  • 2989 বার পঠিত
কুষ্টিয়ার জগতি জিকে ক্যানেলের সেতুতে নিরাপত্তার বালাই নেই দুই পাশে রেলিং উধাও
ছবির ক্যাপশন: ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষ—দুর্ঘটনার অপেক্ষায় কি কর্তৃপক্ষ?

কুষ্টিয়া সদর প্রতিনিধি | মো. মনিরুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার জগতি বিআইডিসি বাজারসংলগ্ন জিকে ক্যানেলের ওপর নির্মিত সেতুটি কি বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষায়? বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান খালের টেইনেজ ১৩+৬০০ এলাকায় অবস্থিত সেতুটির দুই পাশে নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সেতুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশ উন্মুক্ত। ফলে চলাচলের সময় সামান্য অসতর্কতা, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা পিচ্ছিল রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে সেতুর পাশ দিয়ে সরাসরি ক্যানেলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নিরাপত্তা রেলিং ছাড়া সেতু, দায় কার?

সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। বিআইডিসি বাজারসংলগ্ন হওয়ায় ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহনের চাপও রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলপথে সেতুর দুই পাশে নিরাপত্তা রেলিং না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তাদের প্রশ্ন—সেতুটি যদি জনসাধারণের নিয়মিত চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি কেন? কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষায় কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ?

দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?

স্থানীয়দের ভাষ্য, সেতুটির বর্তমান অবস্থা শুধু দুর্ভোগ নয়, এটি জননিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হলেও নিরাপত্তা রেলিং না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, একটি সেতু শুধু যানবাহন চলাচলের অবকাঠামো নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি জড়িত। অথচ সেতুটির দুই পাশে নিরাপত্তা রেলিং না থাকলে সেটি ব্যবহারকারীদের জন্য কতটা নিরাপদ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন স্থানীয়রা।

তাদের আরও অভিযোগ, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি, পরিদর্শন ও আশ্বাসের চেয়ে আগেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

সেতুটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান খালের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও সংস্কারের দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিদর্শন হয় কি না, সেতুটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো কারিগরি মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না এবং সংস্কারের জন্য কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও এখনো স্পষ্ট নয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুষ্টিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।

‘দুর্ঘটনার আগে ব্যবস্থা চাই’

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টি আর অবহেলার সুযোগ নেই। দ্রুত সেতুটি সরেজমিন পরিদর্শন করে এর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে সংস্কার ও মেরামতের পাশাপাশি দুই পাশে টেকসই নিরাপত্তা রেলিং, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং রাতের জন্য প্রয়োজনীয় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করতে হবে।

তাদের ভাষায়, “দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি বদলাতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষায় দুর্ঘটনার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এখন দেখার বিষয়, জগতি বিআইডিসি বাজারসংলগ্ন জিকে ক্যানেলের এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। নাকি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরই শুরু হবে দায় ঠেলাঠেলি ও তৎপরতা—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আলোর পথ | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় অনুপম